পূর্বের অংশ পড়ুন : ইসলাম ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মানব সৃষ্টির ইতিহাস ।
ইসলাম আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ অনুগত হওয়া, আনুগত্য করা, আত্মসমর্পণ করা। আল্লাহর কাছে সর্বতোভাবে আত্মসমর্পণকারীকে মুসলিম বা মুসলমান বলা হয়। ইসলামের বাণী সবার জন্য অবধারিত হলেও ইসলামের বিধান মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য।
একজন মুসলমানকে দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জীবনের সব ক্ষেত্রে
ইসলাম মোতাবেক জীবন যাপন করতে হয়। কেননা মুসলমান মাত্রই এ কথা বিশ্বাস করে, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে একমাত্র (গ্রহণযোগ্য) ধর্ম (জীবনব্যবস্থা)
ইসলাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯)
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। একজন মুসলমান ঘুম থেকে উঠা নিয়ে আবার ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক—সব কিছুর ওপর ইসলামের বিধান আরোপিত। ইসলামের আংশিক ধারণ করে, বিশেষ ক্ষেত্রে ইসলাম বর্জন করার সুযোগ ইসলামে নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৮)
মুসলমান হতে হলে এ কথায় বিশ্বাসী হতে হয় আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা, মালিক, প্রতিপালক ও একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অধিকারী। সুতরাং তাঁর বান্দাদের জীবনযাত্রার নিয়ম-কানুন নির্ধারণের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাও তাঁর। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তুমি কি জানো না, আসমান ও জমিনের সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহরই?’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০৭)
ইসলাম আল্লাহর প্রদত্ত ও মনোনীত একমাত্র ধর্ম। পৃথিবীর প্রধান ধর্মসমূহের মধ্যে একমাত্র ইসলামই বিশিষ্ট নামকরণের অধিকারী। ইহুদি, খ্রিস্ট, হিন্দু, বৌদ্ধ, জরথ্রুস্ট, জৈন, শিখ ইত্যাদির ধর্মের নামকরণ হয়েছে নির্দিষ্ট কোন জাতী বা ব্যক্তিবিশেষের নাম থেকে। কিন্তু একমাত্র ইসলাম একটি প্রচন্ড ব্যতিক্রম। কোন বিশেষ ব্যক্তি অথবা জাতির সাথে এর নামের সংযোগ নেই।
আরও পড়ুন: ইসলাম ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস ।
নাম থেকেই বোঝা যায়, ইসলাম কোন ব্যক্তি বিশেষের আবিষ্কার নয়, কোন এক জাতির মধ্যে তা সীমাবদ্ধ নয়। এটি কোন ব্যক্তি, দেশ অথবা জাতির সম্পত্তি নয়। ইসলাম সমগ্র মহাবিশ্ব এবং মানবজাতীর জন্য মহান আল্লাহ প্রদত্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে যুগে যুগে প্রত্যেক জাতিতে যে সব খাটি ও সৎ লোকের মধ্যে ইসলামের গুণ পাওয়া গেছে, তারা ছিলেন মুসলমান। এ ধরনের লোক আজও আছে, এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে।
শরিয়তের পরিভাষায়, পৃথিবীর প্রথম মানব ও নবী হজরত আদম আ: থেকে শুরু করে শেষনবী মুহাম্মদ সা: পর্যন্ত প্রত্যেক যুগের নবী-রাসূলদের আনীত দীনকে ইসলাম বলে। সব নবী রাসূল ইসলামের দিকেই মানুষকে আহ্বান করেছেন এবং তাঁরা এরই ভিত্তিতে নিজ নিজ উম্মতকে পরিচালনা করেছেন। মহানবী সা:-এর মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম পূর্ণতা লাভ করে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন,
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পূর্ণ করিয়া দিলাম এবং আমি তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পরিপূর্ণ করিয়া দিলাম এবং আমি ইসলামকে তোমাদের ধর্মরূপে পছন্দ করিলাম।’ (সূরা মায়িদা, আয়াত -৩)। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, “ কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত” [ সূরা নীসা, আয়াত ৩]
পরবর্তী অংশ পড়ুন : নবী রাসূলদের পরিচিতি: আদম আঃ থেকে মুহাম্মদ সাঃ ।
0 মন্তব্যসমূহ