মহাপ্লাবনের পর পৃথিবীতে মানবজাতীর বংশবিস্তার কিভাবে হয়?

আনুমানিক ৩০,০০০ বছর পূর্বে হযরত আদম আ এর ইন্তেকালের পর হাজার হাজার বছর কেটে যায়। পৃথিবীর বুকে অসংখ্য নবী-রাসুল আসেন মহান আল্লাহর বাণী ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। সেই প্রেক্ষাপটে বরফের যুগে অর্থাৎ আনুমানিক ১৪,৫০০ বছর পূর্বে নূহ (আ) এর আবির্ভাব। নূহ আ প্রায় ২২৫০ পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন এবং তিনি নবুওতের দায়িত্ব পালন করেন ৯৫০ বছর। কিন্তু তার এই দীর্ঘ নবুওতের জীবনে অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ মহান আল্লহর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং ইসলাম গ্রহণ করে।

অবশেষে তার উম্মতদের পাপাচারের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে পরিয়াধ করেন, ‘‘যেন তার জাতিকে ধ্বংস করা হয়’’ নূহ (আ) এর আরজি অনুসারে মহান এক সময় পৃথিবীতে মহাপ্লাবন সংঘটিত করেন। মহান আল্লাহর নির্দেশে নূহ (আ) একটি বড় কিস্তী বা জাহাজ তৈরি করেছিলেন। যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করত এবং সেই জাহাজে যে সকল মানুষ ও প্রাণী আরোহণ করেছিল তারা ব্যাতিত পৃথিবীর বাকি সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায় এই মহাপ্লাবনের মাধ্যমে। মহাপ্লাবনের পরবর্তী কালের কথা।


এই মহাপ্লাবনে নূহ (আ) এর চারপুত্রের মধ্যে সাম, হাম এবং ইয়াফাস বেঁচে থাকে আর অবাধ্য সন্তান রাফেজ অর্থাৎ অন্য নাম কেনান ও নূহ আ এর স্ত্রী ওয়াহিলা অন্যান্য অবিশ্বাসীদের মত প্লাবনে ডুবে মারা যায়। এরপর নূহ (আ) তার পুত্রদের ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তাদের বংশধরেরা পৃথিবীতে আবাদ করে এবং বংশবৃদ্ধি করে।


এর মধ্যে সাম হতে সেমিটিক জাতীরা আরবে, হাম থেকে হ্যামিটিকগণ মিশর ও আফ্রিকায় বসতি স্থাপন করে। ইয়াফাসের বংশধরদের থেকে আর্য (ইরানী ও ভারতীয়) এবং পৃথিবীর বাকি মানব সম্প্রদায়ের উৎপত্তি হয়। 


আরও পড়ুন: তুর্কি জাতির উৎপত্তি

প্রসঙ্গত, মহাপ্লাবনের পরবর্তী কালে ভারতবাসী এবং বাঙ্গালিদের উৎপত্তি প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ হাননান লিখেছেন, হযরত আদম আ. থেকে আমাদের এই মানব জাতির শুরু। কিন্তু নুহ আঃ এর সময়ে সমগ্র পৃথিবীতে এক মহাপ্লাবন ঘটে। এই মহাপ্লাবনে দুনিয়ার সকল কিছু ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ জীবিত ছিল না। শুধু নুহের নৌকায় আরোহণ করেছিলেন ৮০ জন নুহ আঃ এর অনুসারী; পরবর্তীতে এই ৮০ জন থেকেই মানব জাতির আবার নতুন যাত্রা শুরু হয়।

                               

এই নতুন যাত্রায় বাঙ্গালি জাতিরও সম্পর্ক ছিল। বেঁচে যাওয়া ৮০ জনের মধ্যে 

ছিলেন নূহ (আ) এর এক পুত্র, তার নাম হাম। নূহ আ তার পুত্র হামকে 

বললেন, ‘‘ তুমি মানব বসতি স্থাপনের জনৌ চলে যাও পৃথিবীর দক্ষিণ দিকে। 

পিতার নির্দেশ পেয়ে হাম চলে এলেন আমাদের এশিয়া মহাদেশের কাছাকাছি। 

সেখানে এসে তিনি তাঁর জ্যৈষ্ঠ পুত্র হিন্দকে পাঠালেন ভারতের দিকে। অনেকে 

মনে করেন, হামের পুত্র হিন্দের নাম অনুসারেই ভারতের নাম হয়েছে, 

হিন্দুস্থান। আর হিন্দের দ্বিতীয় পুত্রের নাম ছিল বঙ্গ। এই বঙ্গ এর সন্তানরাই বাঙালি বলে 

পরিচিতি লাভ করে। 

আরও পড়ুন: বাঙ্গালি জাতীর উৎপত্তি

(সূত্র : ড. মোহাম্মদ হান্নান : দেশের নামটি বাংলাদেশ কে রেখেছে এই নাম, অনুপম প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ১৫-১৬)।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ