তুর্কিস্তান : বৃহত্তর তুর্কি জাতির বিলুপ্ত হওয়া দেশ !

                                                            


তুর্কিস্তান শব্দের উৎস ফারসি। একসময় এই অঞ্চল একজন শাসক দ্বারা শাসিত হলেও বর্তমানে এই শব্দ দ্বারা কোনো একক জাতি রাষ্ট্র বোঝানো হয় না। ভূগোলবিদরা তুর্কি জাতিসমূহের আবাসস্থল বোঝাতে সর্বপ্রথম তুর্কিস্তান শব্দের ব্যবহার করত।বর্তমানে আধুনিক তুরস্ক সহ মধ্য এশিয়ায় তুর্কি জাতিসমূহ অধ্যুষিত অঞ্চলকে তুর্কিস্তান বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক তুরস্ক সহ মধ্য এশিয়ার দেশ যেমন তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান,কিরগিস্তান ও চীনের জিনজিয়াং তথা পূর্ব তুর্কিস্তান”। 


অনেকে রাশিয়ার তুর্কি অঞ্চলসমূহ যেমন তাতারস্তান  ও সাইবেরিয়ার কিছু অংশকে তুর্কিস্তানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। প্রসঙ্গত তুর্কিদের আলোচনা উঠলে সাধারণত কল্পনায় ভেসে উঠে আধুনিক তুরস্ক রাষ্ট্রের কথা। কিন্তু তুরস্কের ঐতিহাসিক পরিচিতি হল এশিয়া মাইনর। যাইহোক, তুরস্ককে তুর্কিদের দেশ মনে করাটা ভুল ধারণা। এশিয়া মাইনর বা বর্তমান তুরস্ক তুর্কিজাতির আদি বাসস্থান নয়। তুর্কিদের আদি বাসস্থান হলো তুর্কিস্তান,যা বর্তমানে বিলুপ্ত। তবে বর্তমানে তুর্কিস্থান নামে একটি শহর রয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তানে।

আরও পড়ুন: তুরস্ক : দেশ পরিচিতি ও ইতিহাস

‍কিছু কিছু ঐতিহাসিকদের মতে তুর্কি জাতিদের জন্য তুর্কিস্তান নামে নির্দিষ্ট কোন দেশ কিংবা সাম্রাজ্য ছিল না। আর বর্তমানেও একক কোন একটি দেশে এই অঞ্চল সীমাবদ্ধ নয়। মোটকথা তুর্কিস্তান কোন রাজনৈতিক সীমানার নাম না। প্রাচীন কাল থেকেই তুর্কিস্তান বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। এবং এই রাজ্যসমূহে তুর্কি জাতিরা বসবাস করে আসছে। প্রাচীন তুর্কিস্তান এখন ছড়িয়ে আছে মধ্য এশিয়ার তুর্কি রাজ্যগুলোর মধ্যে। অর্থাৎ কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজিস্তান, উজবেকিস্তান। নব্বই দশকের শেষদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে মুক্ত হওয়ার পর থেকে এই পাঁচটি এখন স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ।

তুর্কিস্তানের আরেকটি বৃহৎ অংশ রয়ে গেছে চীনের পরাধীন প্রদেশ হিসেবে। ঐতিহাসিকভাবে পূর্ব তুর্কিস্তান নামে পরিচিত উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল এই দেশ এখন চীনা ভাষায় জিনজিয়াং প্রদেশ নামে পরিচিত। জিনজিয়াং অর্থ হল নতুন রাজ্য। নামেই বোঝা যাচ্ছে, চীনারা এখানে দখলসত্ত্ব বা উপনিবেশ কায়েম করে রেখেছে। প্রাচীন তুর্কিস্তানের আরো একটি প্রদেশ বর্তমানে ইরান ও আফগানিস্তানের অংশ। যার ঐতিহাসিক নাম খোরাসান। খোরাসানের বৃহৎ দুটি অংশ রয়ে গেছে আফগানিস্তান ও ইরানে, কিছু অংশ তুর্কমেনিস্তানে।

পূর্ব তুর্কিস্তান

                         আরও পড়ুন: রুমের সেলজুক সালতানাতের ইতিহাস

অন্যদিকে, বর্তমান তুরস্কের অধীবাসি তুর্কিরা হলো বৃহত্তর তুর্কি জাতির একটি অংশ যারা মোঙ্গল জাতির আক্রমণের ফলে মধ্য এশিয়া থেকে পশ্চিম এশিয়ার আধুনিক তুরস্কে বা এশিয়া মাইনর তথা আনাতোলিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। এই তুর্কি জাতিরা প্রথমে সেলজুক সাম্রাজ্য এবং পরে উসমানীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। আর ১৯২৪ সালে উসমানীয় খেলাফত ও সালতানাতের পতনের মধ্যদিয়ে গড়ে উঠে আধুনিক তুরস্ক।

পৃথিবীর ইতিহাসে এখন বৃহত্তর তুর্কি জাতি কিংবা তুর্কিস্তান বলতে কিছুই নেই কিন্তু বর্তমানে যারা অত্যচারিত, নির‌্যাতিত ও বঞ্চিত মুসলমানদের পক্ষে কথা বলে, যারা মানবতার জয়গান গেয়ে চলছে এই ধরণীর বুকে, তারাও এই জাতির একটি অংশ। তারা হলো বর্তমান আধুনিক তুরস্ককে বসবাসকারী তুর্কি জাতি। আব্বাসীয় খেলাফতের পতনের যুগে যেভাবে মুসলিম জাতির রক্ষকরুপে মহান আল্লাহ’র ইচ্ছাই সেলজুক ও উসমানীয় তুর্কিদের আবির্ভাব হয়। তেমনি ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের মধ্যখানে স্বগৌরবে দাড়িয়ে থাকা মুসলিম দেশ তুরস্ক বর্তমান বিশ্বের নিপীড়িত ও অধিকার বঞ্চিত মুসলমানদের রক্ষক রূপে পুন-আবির্ভাব হচ্ছে।

পরবর্তী অংশ : ওরগুজ খান ও ওরগোজ তুর্কিদের অজানা ইতিহাস ।

ভিডিও দেখুন:

                        

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ