আরও পড়ুন : তুর্কিস্থান : বৃহত্তর তুর্কিজাতির বিলুপ্ত হওয়া এক দেশ ।
ওরগুজ খান হযরত ঈসা আঃ এর বহু বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি হযরত নূহ আঃ এর বংশধর ছিলেন। নূহ আঃ এর চারজন ছেলে ছিল। তারা হলেন সাম, হাম, ইয়াফেস এবং রাফেজ তথা কেনান। প্রথম তিনজন আল্লাহর ওপর ঈমান আনেন। কিন্তু শেষোক্ত জন অর্থাৎ কেনানা কাফির হয়ে প্লাবনে ডুবে মারা যায়। তাই প্লাবন শেষে শুধু তার তিন ছেলে হাম, সাম ও ইয়াফেজ এবং তাদের বংশধরেরা বেচে ছিল।
এরপর নূহ আঃ তার ছেলেদের বংশবৃদ্ধি এবং
ইসলাম প্রচারের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দেন। যার মধ্যে হামকে ভারতে,
সামকে ইরানে এবং বড় ছেলে ইয়াফেজকে তুর্কিস্থান ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পাঠিয়ে দেন। ওরগুজ
খানের সম্পর্ক ইয়াফেস বিন নুহ এর সাথে পাওয়া যায়। অর্থাৎ নূহ আঃ এর ছেলে ইয়াফাসের বংশদরদের
থেকে ওরগুজ খানের আগমন।
নূহ আঃ থেকে ওরগুজ খান পর্যন্ত বংশধারাক্রম
হলো যথাক্রমে- ইয়াফেসের আট ছেলের মধ্যে বড় ছেলে তুর্ককে তার উত্তারিধিকারী বানিয়ে যান।
এই তুর্কের নাম অনুসারে তুর্কি জাতীর নামকরণ করা হয়। তুর্ক তার ছেলে তোতেককে উত্তারিধিকারী
নির্বাচিত করেন। তোতেকের চার পুরুষ পর আলিন্জা খানের কথা জানা যায়। আলিন্জা খানের দুই
ছেলে ছিল। তাতার খান ও মোঙ্গল খান। তাদের মধ্যে তৎকালীন সাম্রাজ্য দুইভাগে ভাগ করা
হয়। প্রসঙ্গত, নূহ আঃ এর পর যত বংশ এগোতে থাকে , মানুষ ততই ইসলামের পথ থেকে সরে আসে।
এবং মোঙ্গল খান পর্যন্ত আসতে আসতে খুব কম মানুষই মুসলমান ছিল।
মহাপ্লাবন
আরও পড়ুন:উসমানীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাস
মুঙ্গল খানের চার ছেলের মধ্যে একজন ছিলেন কারা খান এবং এই কারা খানের ছেলে হলেন ওরগুজ খান। তিনি একজন মুসলমান ছিলেন। ওরগুজ খান পরবর্তীতে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ওরগুজ খানের মোট চারজন স্ত্রী ছিল। তিনি তার বিশাল সাম্রাজ্য ছয় ছেলে এবং চব্বিশ জন নাতীদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তিনি তাদেরকে নিজের মোহর দেন। এই মোহর কারো কাছে থাকা অর্থ সে ওরগুজ খান দ্বারা শাসনে নিয়োজিত হয়েছেন।
ওরগুজ খানের বংশধরদের থেকে উৎপত্তি হওয়া বৃহৎ তুর্কি জাতীর একটি অংশ সাধারণত ওরগুজ তুর্কি হিসেবে পরিচিত। আবার অঘুজ তুর্কিরা ২৪ টি গোত্রে বিভক্ত ছিল। ওরগুজ তুর্কি জাতিভুক্ত বিখ্যাত কিছু রাজবংশ হলো – সেলজুক, জেনগি, খোয়ারিজমীয়, আনাতোলিয়া বেয়লিক, কাজার, কায়ি গোত্র তথা উসমানীয় রাজবংশ ইত্যাদি। তাছাড়া আফগানিস্তানের ঘুর ও গজনবী রাজবংশ, ভারতীয় উপমাহদেশের মামলুক, খলজী ও মুঘল রাজবংশ এমনকি বাংলা বিজয়ী ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজিও ওরগুজ তুর্কি জাতির বংশধর ছিল। এছাড়াও আরও অসংখ্য গোষ্ঠী ও রাজবংশ ওরগুজ তুর্কি জাতিভুক্ত ছিল।
পরবর্তী অংশ : সেলজুক তুর্কিদের উত্থান : সেলজুক বেগের অবদান।
ভিডিও দেখুন:


0 মন্তব্যসমূহ