খালিদের ভাই ও তৃতীয় উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় মুয়াবিয়া ৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করলে, তার খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উমাইয়া রাজবংশের জৈষ্ঠ উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রথম মারওয়ান চতুর্থ উমাইয়া খলিফা হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করে।
খলিফার পদ হারানোর পরও খালিদ মারওয়ানের পুত্র ও উত্তরাধিকারী আব্দুল মালিকের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন। পরবর্তীতে খলিফা আব্দুল মালিক খেলাফতের দায়িত্বলাভ করলে খালিদকে খেলাফতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক দায়িত্ব প্রদান করেন। খালিদ ইবনে ইয়াজিদ সফলতার সাথে বহু বছর তার দায়িত্ব পালন করেন এবং ৬৯১ খ্রিস্টাব্দে তিনি তার দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
এরপর তিনি নিজেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান, কবিতা এবং হাদসি চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। খালিদ ইবনে ইয়াজিদ জ্যোতিষবিদ্যা, চিকিৎসা ও রসায়নশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। রসাযনশাস্ত্রে তার পান্ডিত্যের জন্য আলহাকিম' উপাধিতে তাকে ভূষিত করা হয়। গ্রীক বিজ্ঞানের প্রতি খালিদের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। গ্রীকদের দর্শন ও বিজ্ঞান গ্রন্থগুলো তিনি প্রথম অনুবাদ শুরু করেন। এই বিজ্ঞানের গ্রন্থগুলো অনুবাদের মধ্যে তার কর্তব্য সীমাবন্ধ ছিল না, নিজস্ব গবেষণাতেও তিনি নিমগ্ন ছিলেন।
তাছাড়া তারও অনেক আরবি রাসায়ন শাস্ত্রের গ্রন্থ পরবর্তীতে আরবি থেকে ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। খালিদের গ্রন্থ রিসালাতে মারিয়ানাস আল রাহিব আল হাকিম‘‘ ইংরেজিতে "The Book of the Composition of Alchemy" ছিল আরবি ভাষায় রসায়নশাস্ত্রের উপর লিখিত প্রথম গ্রন্থ। এই গ্রন্থটি ১১৪৪ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট চেষ্টার নামক এক ল্যাটিন বিজ্ঞানী Liber de compositione alchemiae নামে ল্যাটিন ভাষায় অনুবদাদ করেন।
আরও পড়ুন: বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও ইসলামী ব্যাক্তিত্ব আল্লামা গোলাম আহমদ মোর্তুজা
স্বর্ণ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে খালিদ ইবনে ইয়াজিদ স্পর্শমণি পর্যন্ত আবিষ্কারে সফল হয়েছিলেন। এই স্পর্শমণির সাহায্যে স্বর্ণ প্রস্তুত করা যেত’। তিনি ৪টি গ্রন্থ রচনা করেছেন বলে ইবনে নাদিম তাঁর ফিহরিন্তে উল্লেখ করেছেন। গ্রন্থগুলো হলো সাহিফাতিল কাবির, ‘ওয়াসি ফাতিহি ইলা ইবনি ফিস সানআ,কিতাবুল হারারাত এবং 'সাহিফাতিস্ সাগীর'। ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসে এই মহান বৈজ্ঞানিক ও রসায়নবিদ ৭০৪ খৃস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
তথ্যের উৎস:
1.গ্রন্থ- সেরা মুসলিম বিজ্ঞানী।
লেখক: জিলহজ আলী
2.https://en.wikipedia.org/wiki/Khalid_ibn_Yazid

0 মন্তব্যসমূহ