ইন্দোনেশিয়া : জনসংখ্যায় বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ

                                                       


ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এর একদিকে প্রশান্ত মহাসাগর, অন্যদিকে ভারত মহাসাগর স্থল সীমান্ত রয়েছে মালয়েশিয়া, বোর্নিও, পাপুয়া নিউগিনি পূর্ব তিমুরের সাথে সরু প্রণালী দ্বারা আলাদা হয়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ফিলিপাইনের সঙ্গে ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে অবস্থিত দেশটির সুমাত্রা, জাভা, সুলাওয়েসি, বোর্নিও নিউ গিনি পাঁচটি প্রধান দ্বীপ 

ইন্দোনেশীয়া জনসংখ্যায় পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। এশিয়ার অর্থনীতিতে একটি সমৃদ্ধ দেশ ইন্দোনেশীয়া। ইতিপূর্বে দেশটির রাজধানী ছিল জাকার্তা তবে বর্তমান রাজধানী হলো বোর্নিও। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি, এর মধ্যে শতকরা ৮৮ জন ইসলাম ধর্মাবলম্বী। দেশটির আয়তন প্রায় ১৯ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার মুদ্রা রুপিয়া, সরকারি ভাষা বাহাসা ইন্দোনেশিয়া বিখ্যাত সুনামি জাদুঘর অবস্থিত দেশটির আচেহ প্রদেশে।                         

আরও দেখুন:মুসলিম পরাশক্তি তুরস্ক

৭ম থেকে ১৪শ শতক পর্যন্ত বৌদ্ধ শ্রীবিজয়া সাম্রাজ্য সুমাত্রা দ্বীপে সমৃদ্ধি লাভ করে এবং এটি পশ্চিম জাভা দ্বীপ এবং মালয় উপদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিল। ১৪শ শতক নাগাস পূর্ব জাভা দ্বীপে মাজাপাহিত নামের হিন্দু রাজ্য পরিণতি লাভ করে। মাজাপাহিত সাম্রাজ্যের পতনের পর যে ছোট ছোট রাজ্যের আবির্ভাব ঘটে, সেগুলির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৬০২ সাল থেকে ওলন্দাজেরা ধীরে ধীরে ইন্দোনেশিয়ার শাসকশ্রেণী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে। এদের মধ্যে পূর্ব তিমোর ছিল একমাত্র ব্যতিক্রম; এটি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের অধীনে ছিল।

                                                                     

ইন্দোনেশিয়া, ম্যাপ

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিমদের আগমন ঘটে দেশটিতে। উত্তর সুমাত্রা হয়ে ক্রমে মুসলমানরা ছড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার মাইলের বিস্তৃত ইন্দোনেশিয়ায়। ষোড়শ শতাব্দীতে দেশটির প্রধান ধর্ম হয়ে যায় ইসলাম। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতি ক্রমেই ছাপিয়ে গিয়েছিল বৌদ্ধ আর হিন্দুপ্রধান এ অঞ্চলে। এর পর ধাপে ধাপে ইউরোপীয়দের আগমন ঘটে দেশটিতে। ব্রিটিশ আর ডাচরা তাদের সাম্রাজ্য স্থাপন করলেও ধর্ম ও সংস্কৃতিতে তারা কোনো প্রভাব রাখতে পারেন। 

২০শ শতকের প্রথম দশকে ইন্দোনেশীয়ায় স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয় এবং দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। তরুণ কর্মজীবী ও ছাত্রদের একটি ক্ষুদ্র দল এর নেতৃত্বে ছিল। এদের কেউ কেউ নেদারল্যান্ড্‌সে শিক্ষালাভ করেছিল। অনেক আন্দোলনকারীকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কারাবন্দী করা হয়, যাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি সুকর্ণও ছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিন বছর জাপানিরা ইন্দোনেশিয়া দখল করে। ১৯৪৫ সালের ১৭ই আগস্ট মিত্রশক্তির হাতে জাপনের আত্মসমর্পণের তিন দিন পর সুকর্ণ এবং মোহাম্মাদ আতার নেতৃত্বে একটি ক্ষুদ্র ইন্দোনেশীয় দল ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে এবং নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ চালাবার জন্য একটি সংবিধান রচনা করে।

আরও পড়ুন:উত্তর আফ্রিকার যুদ্ধবিদ্ধস্ত মুসলিম দেশ সুদান 

স্বাধীনতা ঘোষণার পর ওলন্দাজরা দেশটিকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে শক্ত বাধার সম্মুখীন হয়। চার বছর যুদ্ধ ও আলাপ আলোচনার পর ওলন্দাজেরা ইন্দোনেশীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ১৯৫০ সালে ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘের ৬০তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে। উল্ল্যেখ্য, খ্রিস্টান বিশ্বের ষড়যন্ত্র ও সমর্থনের ফলে ১৯৯৯ সালে খ্রিস্টান অধ্যুষিত দ্বীপ পূর্ব তিমুর ইন্দোনেশীয়া থেকে বিচ্ছিন্ন স্বাধীনতা লাভ করে।

                                                    

জোকো উইদুদু

ইন্দোনেশীয়ার সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি শাসিত এবং দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন আহমেদ সুকর্ণতিনি ১৯৬৭ সাল পর‌্যন্ত দেশটির রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতাসীন ছিলেন। জুলাই ২০০১ সালে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতায় আসেন মেঘবতি সুকর্ণপুত্রী। অক্টোবর ২০০৪ সালের নির্বাচনে তাকে পরাজিত করে দেশটির রাষ্ট্রপ্রতি হিসেবে নির্বাচিত হন সুসিলো বামবাং ইয়ুধনো। অক্টোবর ২০১৪ সালের নির্বাচনে তাকে পরাজিত করে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জোকো উইদোদো। সর্বশেষ মে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পুনারয় নির্বাচিত হয়ে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন জোকো উইদোদো।

আরও পড়ুন:তুর্কিস্তান : তুর্কি জাতির হারানো দেশ

 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ