মালদ্বীপ : আয়তন ও জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম মুসলিম দেশ


আরও পড়ুন : আয়তনে বিশ্বর বৃহত্তম মুসলিম দেশ কাজাখস্তান।

মালদ্বীপ দক্ষীণ এশিয়ায় অবস্থিত ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। ১২০০ টি বিক্ষিপ্ত দ্বীপ নিয়ে এই রাষ্ট্রটি গঠিত। কিন্তু মানুষ থাকে মাত্র কয়েকটি দ্বীপে। এই প্রবাল দ্বীপগুলোর কোনোটিই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ছয় ফুটের বেশি উচ্চতার নয়। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে মালদ্বীপের পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মালদ্বীপ নামটি সম্ভবত "মালে দিভেহী রাজ্য" হতে উদ্ভূত যার অর্থ হল- মালে অধিকৃত দ্বীপরাষ্ট্র। মধ্যযুগে ইবনে বতুতা ও অন্যান্য আরব পর্যটকেরা এই অঞ্চলকে 'মহাল দিবিয়াত' নামে উল্লেখ করেছেন। আরবীতে মহাল অর্থ প্রাসাদ। বর্তমানে এই নামটিই মালদ্বীপের রাষ্ট্রীয় প্রতীকে লেখা হয়। মালদ্বীপ আয়তন ও জনসংখ্যায় পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মুসলিম দেশ।

                                       

১২তম শতাব্দীতে এই দ্বীপটি বৌদ্ধ ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী কার্যকরভাবে সবাই মুসলমান। মরক্কোর পরিব্রাজক ইবনে বতুতার মতে, মালদ্বীপে ইসলাম্ এসেছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর পরিব্রাজক ইউসুফ বারবারীর মাধ্যমে। কথিত আছে, তিনি এক অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে মালদ্বীপ বাসীকে ইসলামের সত্যতা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। এর ফলে দেশটির তৎকালীন বাদশাহ সনুরাজা সহ সকল মালদ্বীপ বাসী ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন : জনসংখ্যায় বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া

ঘটনাটি ছিল ১১৪০ সালের । এই সময় থেকে ১৯৫৩ সাল অবধি - প্রায় ৮০০ বছর ,৯২ জন সুলতান নিরবিচ্ছিন্নভাবে শাসন করে দ্বীপরাষ্ট্রটি । উল্লেখ্য, ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে মালদ্বীপের সুলতান ছিলেন সুলতান থাকুরুফানি আল-আযম। তিনি পর্তুগিজ দের মালদ্বীপ থেকে বহিস্কার করেন। সুলতান থাকুরুফানি আল-আযম মালদ্বীপের নবযুগের দ্রষ্টা। তিনিই নতুন লেখনির প্রচলন করেন। গড়ে তোলেন সামরিক বাহিনী।

                                                  

মালদ্বীপ. ম্যাপ

ব্রিটিশরা ১৮১৫ সালে শ্রীলঙ্কা পদানত করে। এরপর পদানত করে মালদ্বীপকেও। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৫৩ সালের দিকে ইসলামী সালতানাতের অবসান হয় এবং মালদ্বীপ হয়ে ওঠে রিপাবলিক বা প্রজাতান্ত্রিক। মালদ্বীপের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন আমিন দিদি। তিনি ব্রিটিশ প্রভাবিত ইসলাম বিদ্বেষী ছিলেন। তাই মালদ্বীপের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতা আমিন দিদিকে উৎখাত করেন।

                                       

এরপর আইনসভা পুনরায় সালতানাত এর পক্ষে রায় দেয়। নতুন সুলতান হন মোহাম্মদ ফরিদ দিদি। কিন্তু তিনি ব্রিটিশদের সামরিক ঘাঁটি তৈরির অনুমতি দিলে ব্যাপক জনবিক্ষোভ সংগঠিত হয়। অবশেষে ১৯৬৫ সালের ২৬ জুলাই মালদ্বীপ ব্রিটিশদের কাছ থেকে পূর্ন স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার তিন বছর পর এক গণভোটের মাধ্যমে ১৯৬৮ সালে পুনরায় সালতানাতের অবসান ঘটানো হয়। এবং প্রজাতান্ত্রিক মালদ্বীপের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ইব্রাহীম নাসির হন দেশটির পে্রসিডেন্ট । তিনি ১৯৭৮ সাল পর‌্যন্ত ক্ষমাতয় ছিলেন।

                               

আরও পড়ুন:যুদ্ধবিদ্ধস্ত মুসলিম দেশ সুদান

মালদ্বীপে বর্তমানে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন সরকারপ্রধান। প্রেসিডেন্টই ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন এবং তিনি হচ্ছেন তাদের প্রধান। প্রেসিডেন্ট পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তবে দেশটিতে অমুসলিমদের কোনো ভোটাধিকার নেই। কয়েক দশকের স্বৈরশাসনের পর ২০০৮ সালে মালদ্বীপে বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোহাম্মদ নাশিদ জয়লাভ করেন। কিন্তু ২০১২ সালে বন্দুকের নলের মুখে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।

                                                                          

মালদ্বীপ

এরপর ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবদুল্লা ইয়ামিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।  সর্বশেষ নভেম্বর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বচানে আব্দুল্লাহ ইয়ামিনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচতি হন ইবরাহিম মোহাম্মদ সলিহ। উল্লেখ্য, আগস্ট ২০০৮ সালে দেশটির ইতিহাসে প্রথম সংবিধান রচিত হয়। পর্যটকদের জন্য মালদ্বীপ রীতিমতো স্বর্গরাজ্য। দেশটির অর্থনীতিও পর্যটনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। পর্যটকরা রাজধানী মালে বাদে জনবসতি রয়েছে এমন দ্বীপগুলোতে অল্প সময়ের জন্য যাওয়ার অনুমতি পান।


বহু মালদ্বীপবাসী দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করলেও সম্প্রতি দেশটি অবকাঠামো, শিল্প ও মৎস্যসম্পদ খাতে উন্নতি করেছে। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতেও তাদের যথেষ্ঠ উন্নতি হয়েছেমালদ্বীপের রাষ্ট্র ভাষা মালদ্বিভিয়ান (দিভেহি), রাষ্ট্র ধর্ম  ইসলাম, মুদ্রা মালদ্বীপীয় রুপেইয়া এবং পার্লামেন্টের নাম পিপলস মজলিস্। দেশটির আয়তন মাত্র ২৯৮ বর্গকিলোমিটার।  ওয়ার্লড পপুলেশন ডট কমের হিসেব সর্বশেষ ২০২০ সালের অনুযায়ী, দেশেটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪৩ হাজার জন , যার শতকারা ১০০ ভাগ মুসলমান ।

আরও পড়ুন:মুসলিম বিশ্বের পরাশক্তি তুরস্ক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ