যাকাত অস্বিকারকারীদের বিরোদ্ধে অভিযান। যুলকাশার যুদ্ধ । আবু বকরের (রা) । রাশেদিন খেলাফত ।

                                                                 


ভিডিও দেখুন

আরও পড়ুন : আবু বকরের খেলাফত লাভের ইতিহাস

৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (স) এর ওফাত এবং আবু বকর (রা) ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর পর ইসলামী রাষ্ট্র বেশ কিছু সংকটের সম্মুখিন হয়। সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল- ইসলাম ত্যাগ করে কিছু স্বার্থবাদী লোকের মিথ্যা নবুওয়তের দাবি, ইসলামের ফরজ বিধান যাকাত অস্বীকার এবং মদীনা রাষ্ট্রের বিরোদ্ধে বিদ্রোহ। এই সংকট সমূহ মোকাবেলায় আবু বকর (রা) বেশকিছু সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

প্রথমে তিনি উসামা বিন যায়েদের নেতৃত্বে সিরিয়ায় অভিযান পরিচালনা করে বিদ্রোহী গোত্র সমূহকে মদীনা রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার এবং করদানে বাধ্য করেন। উসামার সিরিয়া অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আই বাটনের ভিডিওটি দেখতে পারেন। এরপর আবু বকর (রা) মুসলিম সেনাবাহিনীকে ১১ টি দলে বিভক্ত করেন। প্রত্যেক দলে একজন সেনাপতি নিযুক্ত করেন এবং প্রত্যেককে মদীনার রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট পতাকা প্রদান করেন।

                 

আরও পড়ুন : উসামার সিরিয়া অভিযান

এই ১১ টি দলকে ভন্ড নবী এবং বিদ্রোহী আরব গোত্রদের বিরোদ্ধে যুদ্ধ অভিযান প্রেরণ করেন।স্বধর্মত্যাগী প্রতারক এবং বাতিলের বিরোদ্ধে আবু বকর (রা) এর এই অভিযান সমূহকে ইসলামের ইতিহাসে রিদ্দার যুদ্ধ বলা হয়। যাকাত ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভ ও ফরজ বিধানের মধ্যে অন্যতম একটি। তাছাড়া ইসলামের একটি বিধানকে অস্বীকার করা অর্থ- সম্পূর্ণ ইসলামকে পরিত্যাগ করা। তাই আবু বকর (রা) নিজেই মুসলিম মুজাহিদদের নিয়ে যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরোদ্ধে যুদ্ধ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।                             

৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর মহান আল্লাহ মুসলমানদের জন্য যাকাতকে ফরজ করে দেন। ৬৩১ খ্রিস্টাব্দে মহানবী মুসলমানদেরকে যাকাত প্রদানের নির্দেশ দেন এবং আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে যাকাত আদায়কারী দূতদের প্রেরণ করেন। মহানবী (স) এর জীবীত কালে আবের গোত্র সমূহ সঠিক সময়ে এবং নির্ধারিত পরিমাণে যাকাত প্রদান করত।

কিন্তু মহানবীর (স) ওফাতের পর কিছু আরব গোত্র যাকাত দিতে অস্বীকার করে। এর মধ্যে আবস, জুবিয়ান,তামিম ও তায়ী গোত্র ছিল অন্যতম। এই যাকাত অস্বীকারকারী লোকেরা মনে করত- যাকাত মহানবী (স) এর সাথে ব্যাক্তিগতভাবে সম্পর্কিত। যেহেতু মাহনবী (স) ইন্তেকাল করেছেন তাই যাকাত আদায়ের আর প্রয়োজন নেই। তাছাড়া আবস ও জুবিয়ান গোত্রের লোকেরা ভন্ডনবী তোলায়হা কর্তৃক প্ররোচিত হয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হত্যা করে এবং ইসলাম ত্যাগ করার জন্য চাপ প্রদান করে।

                         

আরও পড়ুন : মক্কা বিজয়ের ইতিহাস

তারা মুসলিম যাকাত আদায়কারীদের উপর অত্যাচার ও নিপিড়ন চালায়। এমনকি গোত্রদ্বয় যাকাত দিতে অস্বিকৃতি জানয়ে মদিনায় দূত পাঠায়, যেন তাদেরকে যাকাত হতে অব্যহতি দেওয়া হয়। তাদের এই দু:সাহসী কর্মকান্ডের ফলে আবু বকর (রা) বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন, একটি ছাগীর বাচ্চা, যা মহানবী (স) এর সময় জাকাত হিসেবে দেওয়া হত, কেউ যদি তা দিতে অস্বিকার করে, আমি তাদের বিরোদ্ধে যুদ্ধ করব।                           

আবু বকর (রা) বজ্রবাণী শুনে অহংকারী ও ব্যাক্তি স্বাধীনতাকামি আরব গোত্র সমূহ মদীনা রাষ্ট্রের বিরোদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এরপর তারা মদীনা আক্রমণের জন্য মদীনা থেকে ১২ মাইল দূরে জুল কাশা নামক স্থানে সমবেত হয়ে মুসলমানদের বিরোদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

এরপর আবু বকর (রা) হযরত আলী, তালহা ও যুবাইর (রা) কে মদিনা নগরীর বিভিন্ন প্রবশে পথে প্রহারী নিযুক্ত করেন। ইতিপূর্বে হযরত উসামা (রা) সিরিয়া থেকে মদীনায় প্রাত্যবর্তন করেন। উসামাকে মদীনা রক্ষাণাবেক্ষনের দায়িত্ব দিয়ে আবু বকর (রা) নিজেই যাকাত অস্বিকার কারী আরব গোত্রসমূহের বিরোদ্ধে যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেন।

                           

ফলে যুলকাশার প্রান্তরে সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক যুলকাশার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে যাকাত অস্বীকারকারী গোত্রসমূহ সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হয়। যুদ্ধে শত্রুদের অনেকেই বন্দি এবং নিহত হয়। বনি আবস ও জুবিয়ান গোত্রের লোকেরা পরাজিত হয়ে বুঝাখা অঞ্চলে ভন্ড নবী তোলায়হার সাথে যুগদান করে।

আরও পড়ুন : ভন্ডনবীদের বিরোদ্ধে অভিযান

যুলকাশার যুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীমী। এই যুদ্ধে শত্রুদের পরাজয়ে ফলে মদীনা নগরী রক্ষা পায়। ইসলামী রাষ্ট্র প্রথম সংকট থেকে মুক্তি পাই। এবং মদীনার মরযদা বহুগুণে বৃদ্ধি পাই। মনে ভীতি সঞ্চার হয় এবং মুসলমানদের মনে সাহস সঞ্চার হয়। তামিম ও তায়ী গোত্রসহ অন্যান্য আরব গোত্র সমূহ যাকাতকে স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং মদিনায় এসে তারা যাকাত জমা দেয়। এরপর আরবের আর কোন গোত্র যাকাত আদায় অস্বীকার করতে সাহস করেনি।

                                             

💻তথ্যের উৎস:

📌ইসলামের ইতিহাস- সৈয়দ মাহমদুল হাসান 📌ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি- সৈয়দ মাহমুদুল হাছান 📌ইসলামের ইতহিাস- মুহাম্মদ মিজানুর রশিদ 📌আরব জাতীর ইতিহাস- শেখ লুতফর রহমান 📌দ্যা লস্ট ইসলামিক হিস্ট্রি- ফিরাস আল খতিব 📌আবু বকর সিদ্দিক (রা)- ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি 📌খিলাফতে রাশেদা- মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুর রহিম

   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ