কাজাখস্তান : আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ

                                     

মধ্য এশিয়ার একটি প্রজাতান্ত্রিক দেশ কাজাখস্তান। এটি একদিকে আয়তনে বিশ্বের নবম বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। অপরদিকে আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। এর উত্তরে রাশিয়া, পূর্বে চীন, দক্ষিণে কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান এবং পশ্চিমে কাস্পিয়ান সাগর ও রাশিয়া অবস্থিত। কাজাখস্তানের বেশির ভাগ এশিয়া মহাদেশে পড়লেও দেশটির উরাল নদীর পশ্চিমের কিছু অংশ ইউরোপ মহাদেশে পড়েছে।

অষ্টম শতাব্দীতে মধ্য এশিয়ায় ইসলামের প্রসার এবং বিজয় অভিযান শুরু হয়, মুসলিম সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসাবে এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান কাজাখস্তান কিরগিজস্তানের সীমান্তে তালাসের যুদ্ধ হয়েছিল ৭৫১ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে এখানে চীনা তাং রাজবংশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল আব্বাসীয় খিলাফত এবং তিব্বত সাম্রাজ্য এই যুদ্ধের ফলে পরবর্তী ৪০০ বছর এই অঞ্চল মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে ছিল

                             

আরও পড়ুন:তুরস্কের ইতিহাস এবং দেশ পরচিতি                

এর পর ১৪৬৫ থেকে ১৭৩১ খ্রি. পর্যন্ত কাজাখস্তানে প্রতিষ্টিত হয় মুসলিম কাজান খানেত কিন্তু ১৭৩১ সাল থেকে দেশটিতে রুশ বণিক এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়তে থাকে অবশেষে রুশ সাম্রাজ্য ১৮৬৩ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে কাজাখস্তান দখল করে নেয় পরবর্তীকালে ১৯১৭ সালে ক্রেনোস্কির নেতৃত্বে ডেমোক্র্যাটরা রাশিয়ার জারের পতন ঘটায় কিন্তু তাদের ক্ষমতা সংহত হওয়ার আগেই আবার বিপ্লব হয় ওই বছরই কাজাখস্তান রাশিয়ার জারের অধীনে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত ছিল

                                                                

কাজাখস্তান, ম্যাপ

এরপর কমিউনিজম তথা সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে ছিল ১৯১৭ থেকে ১৯৯১ সালের স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর কাজাখস্তান সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি প্রেসিডেন্ট শাসিত অর্থনৈতিকভাবে মধ্য এশিয়ার নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্র কাজাখস্তান পুরো অঞ্চলের ৬০ শতাংশ জিডিপি এই দেশটির খনিজসমৃদ্ধ দেশটির মূল সম্পদ তেল গ্যাস দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কাজাখ রাশিয়ান বংশোদ্ভূত এক-চতুর্থাংশ সোভিয়েত আমলে ধর্ম খুব বেশি গুরুত্ব না পেলেও এখন প্রধান ধর্ম ইসলাম মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মুসলিম। বাকী ৩০ ভাগ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

২৭ লাখ ২৪ হাজার ৯০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ মানুষের বসবাস। কাজাখ ভাষা কাজাখস্তানের সরকারি ভাষা। তবে রুশ ভাষাও দেশটিতে সহ-সরকারী ভাষা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। নুরসুলতান কাজাখস্তানের রাজধানী। তবে কিছুদিন আগেও এই শহরটির নাম ছিল আস্তানা। দেশের প্রথম প্রেসিডেন্টের সম্মানে রাজধানী আস্তানার নাম পরিবর্তন করে নুরসুলতান রাখা হয়। কাজাখস্তানের সবচেয়ে বড় শহর হচ্ছে আলমাতি এটিই দেশটির পূর্ববর্তী রাজধানী ছিল তবে এখনো এটিই দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক এবং শিল্প কেন্দ্র।                             

আরও পড়ুন :সুদানের ইতিহাস ও দেশ পরিচিতি                       

কাজাখস্তানের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হন। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং দ্বিকাক্ষিক আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত। কাজাখস্তান ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকেই দেশটির রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন নূর সুলতান।

কিন্তু গত ২০১৯ সালের ২০ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন ৩০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এই শাসক। এরপর সংবিধানের বিধি অনুযায়ী ২১ মার্চ দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার কাসিম জোমার্ত তোকায়েভ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ত তোকায়েভ দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্টের সম্মানে রাজধানী আস্তানার নাম পরিবর্তন করে নুর সুলতান রাখেন। কাজাখস্তানের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট ,উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষের নাম মাজিলিস। দেশটির সরকারী মুদ্রা হচ্ছে টেংগেটেংগে সমান প্রায় বাংলাদেশী ২২ পয়সা এবং .১৮ ভারতীয় রুপি।             

রাজধানী, নুর সুলতান

এখানে বিশেষভাবে উল্ল্যেখ্য, ইতিপূর্বে কাজাখস্তানকে  বিশ্ববাসী জানতো একটি সেকুলার ধর্মবিরোধী রাষ্ট্র হিসেবে। তবে দেশটিতে ধর্মীয় অনুরাগ বাড়ছে দিন দিন, ইসলামের পূণরুত্থান হচ্ছে কাজাখস্তানের আকাশে-বাতাসে। সেই ধর্মবিরোধী সোভিয়েত ইউনিয়নের আদলে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা থেকে ধর্মবিরোধী ছাপ উঠে যাচ্ছে দেশটি থেকে। কালের কণ্ঠ ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির রিপোর্ট অনুসারে , মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশ কাজাখস্তানে ২০১৯ সালে ৮০টি মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে।

                                                   

আরও পড়তে পারেন:জনসংখ্যায় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশীয়া

দেশটির মসজিদ নির্মাণ পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান পরিচালক মারাত গাবাসবায়ভ এ তথ্য জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে গত বছরই সর্বোচ্চ সংখ্যক মসজিদ উদ্বোধন করা হলো কাজাখস্তানে। সরকারি হিসাব মতে, কাজাখস্তানে বর্তমানে দুই হাজার ৬৯১টি মসজিদ রয়েছে। যার সংখ্যা কয়েক বছর পূর্বেও দেড় হাজারের বেশী ছিলনা। তা ছাড়া বড় বড় মসজিদের সঙ্গে কোরআন মুখস্থ করার জন্য হেফজখানা ও উচ্চতর ইসলামী গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।

         

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ