History of Mughal Empire | History of King Babur The Founder Ep.1 (1500-1525 AD)
১৫০৩ খ্রি. সংঘটিত হওয়া আরচিয়ানের যুদ্ধে উজবেক নেতা ও সায়বানিদ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সায়বানি খানের নিকট পরাজিত হয় পরগানা ও সমরকন্দের অধিপতি আমীর বাবর। এই পরাজয়ের ফলে কেবলমাত্র সমরকন্দ থেকে নই, বরং পৈতৃক রাজ্য ফরগানা থেকেও বিতাড়িত হন তিনি। এরপর রাজ্যদ্বয় শায়বানী খান তার সাম্রাজ্যভুক্ত করে নেয়। এভাবে ফরগানা রাজ্য এবং সমরকন্দ পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে, রাজ্য ও গৃহচ্যুত বাবর আশ্রয়ের সন্ধানে একস্থান থেকে অন্য স্থানে ভাগ্যান্বষণে ঘুরতে থাকেন। মধ্য এশিয়ায় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় ব্যার্থ হয়ে দীর্ঘ এক বছর কাল নানা দুঃখ-দুর্দশায় রাজ্যহারা অবস্থায় দিন অতিবাহিত করে অবশেষে তিনি ভারতবর্ষ তথা হিন্দুস্তান বিজয়ের সংকল্প গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: সম্রাট বাবরের (প্রথম পর্ব) জন্ম ও বংশ পরিচয়। মোগল নামের উৎপত্তি
কিন্তু মধ্য এশিয়া থেকে হিন্দুস্থান বিজয়ের প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল আফগানিস্তান। কেননা আফগানিস্তান দখল ব্যাতিত হিন্দুস্তান বিজয় করা প্রায় অসম্ভব। তাই স্থির ও নির্ভীক বাবর ভারতবর্ষ বিজয়ের লক্ষ্যে প্রথমে হিন্দুকোশ পর্বতমালা অতিক্রম করে আফগানিস্তানের অভিমুখে যুদ্ধ যাত্রা করেন। ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাদ্ধে মেসোডোনিয়া সাম্রাজ্যের অধিপতি গ্রিক বীর আলেকজান্ডারও আফগানিস্তান বিজয় করার মাধ্যমে হিন্দুকোশ পর্বতমালা অতিক্রম করে ভারতবর্ষে আক্রমণ করেছিলেন। সম্রাট আলেকজান্ডার ভারতবর্ষ বিজয়ে ব্যার্থ হলেও বাবর এ ক্ষেত্রে সফল কাম হয়েছিলেন।
![]() |
| সম্রাট বাবর |
বাবর কর্তৃক আফগানিস্তানে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা এবং বাদশাহ উপাধী গ্রহণ, পৈতৃক রাজ্য পরগানা ও সমরকন্দ পুনরুদ্ধারের সর্বশেষ প্রচেষ্ঠা, ভারতবর্ষে পরিচালিত প্রাথমিক অভিযান এবং লাহোর ও পান্জাব সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন।
আফগানিস্তান বিজয় ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা এবং বাদশাহ উপাধী গ্রহণ: মধ্য এশিয়ার হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে বাবর অসামান্য দক্ষতা ও রণকৌশলের সঙ্গে স্বীয় ভাগ্য পরীক্ষার জন্য হিন্দুকোশ পর্বতমালা অতিক্রম করে আফগানিস্তানের কাবুলে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানকার রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগে ১৫০৪ খ্রি. তিনি কাবুল বিজয় করেন। কাবুল অধিকারের অল্প দিনের মধ্যে তিনি গজনী সহ আফগানিস্তান অনেক শহর বিজয় করেন এবং বাদশাহ উপাধি গ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম বাদশাহ উপাধি গ্রহণ
স্বদেশ পুনরুদ্ধানেরর সর্বশেষ প্রচেষ্টা : বাবর ১৫০৩ থেকে ১৫১০ খ্রি. পরযন্ত আফগানিস্তানে শাসনকারয পরিচালনা করেন। কিন্তু স্বদেশের প্রতি মায়া ও ভালোবাসা তার কখনো কমেনি। তাই তিনি বারংবার পৈতৃক রাজ্য স্বদেশ জয়ের সুযোগ খুজতেন। অবশেষে বাদশাহ বাবরের কাছে সে সুযোগ ধরা দেয়। ১৫১০ খ্রি. পারস্যের সাফাভীদ সাম্রাজ্যের শাসক শাহ ইসমাইলের নিকট মার্ভের যুদ্ধে উজবেক নেতা সাইবানী খান পরাজিত ও নিহত হনয়।
আরও পড়ুুন: সম্রাট বাবরের (দ্বিতীয় পর্ব) সিংহাসন লাভ এবং ভাগ্য বিপরযয়।
এরপর বাবর শাহ ইসমাইলের সাথে মিত্রতা স্থাপন করে, ১৫১১ খ্রি তৃতীয়বারের মত কাবুলে থেকে অভিযান পরিচালনা করে সমরকন্দ এবং বুখারা বিজয় করেন। কিন্তু পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৫১২ খ্রি. সাইবানী খানের উত্তারাধীকারী তৈমুর সুলতানের নিকট গাজ দাওয়ানের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে সমরকন্দ ও বুখারা পুনরায় বাবরের হস্তচ্যুত হয়। ফরগানা রাজ্য অধিকার করতে চাইলেও তিনি ব্যার্থ হন। এরপর তিনি স্বদেশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করতে বাধ্য হন।
অতঃপর অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে বাবর বিফল মনোরথে কাবুলে প্রাত্যবর্তন করেন। এভাবে ভাগ্যেকে মেনে নিয়ে পিতৃরাজ্য পুনরুদ্ধারের আশা চিরতরে জলান্জলি দিয়ে তিনি কাবুল থেকে ভারতবর্ষে অভিযান পরিচালনার প্র্রতি মনোনিবেশ করেন। তাই বলা যায়, মধ্য এশিয়ায় ব্যর্থাতা ছিল বাবরের ভারতবর্ষে অভিযানের অন্যতম কারণ। তাছাড়া পিতার দেখানো
ভারতবর্ষে প্রাথমিক অভিযান: বাদশাহ বাবর মূলত ১৫২৬ খ্রি. সংঘটিত হওয়া পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। কিন্তু এই যুদ্ধের পূর্বেও বাবর বেশ কয়েকটি পর্যায়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেন। ১৫১৯ খ্রি. তিনি প্রথম বারের মত কাবুল থেকে সিন্ধু নদী অতিক্রম করে ভারতবর্ষের কনৌজ ও পান্জাব রাজ্যের মধ্যবর্তী ভেরা অঞ্চল বিজয় করেন।
এই বিজয়ের পর ভেরা অঞ্চল হতে বাবর তার বিশ্বস্ত অনুচর মৌলা মুর্শিদকে দূতরুপে দিল্লির লোদী রাজবংশের সুলতান ইব্রাহীম লোদীর নিকট প্রেরণ করে। এবং তুর্কীদের পূর্ব অধিকৃত অর্থাৎ কুতুব উদ্দীন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠত ভারতবর্ষের মামলুক তথা তুর্কি রাজবংশের অধীনে থাকা সকল ভারতীয় অঞ্চল তার হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দাবি করেন। কিন্তু পথিমধ্যে তৎকালীন পান্জাব ও লাহোরের শাসক দৌলত খান, বাবরের দূতকে লাহোরে দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্দি করে রাখে। ফলে দূত দিল্লী গমন করতে না পারলে বাবরের মিশনটি ব্যার্থ হয়।
![]() |
| ইব্রাহীম লোদী |
মৌলা মুর্শিদের মিশন ব্যার্থ হলে বাবর ভারতবর্ষে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে কুশাব ও চীনাব নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল বিজয় করেন। এরপর বাবর তৃতীয় পর্যায়ের অভিযান চালিয়ে পান্জাবের শিয়ালকোট পর্যন্ত অগ্রসর হন। কিন্তু আফগানিস্তানের কান্দাহারের শাসক শাহবেগ অরঘান কর্তৃক কাবুল আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিলে তিনি কাবুলে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
আফগানিস্তানে চূড়ান্ত অভিযান: এবার বাদশাহ বাবর বুঝতে পারলেন, কান্দাহারের উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারলে কাবুলের নিরাপত্তা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি ভারতবর্ষে অভিযানও সফল হবে। তাই তিনি কান্দাহার বিজয়ের পূর্বে ১৫২০ খ্রি. প্রথমে আফগানিস্তানের বাদশাহখান অঞ্চল বিজয় করেন। বিজয়ের পর এই অঞ্চলের শাসনভার অর্পণ করেন তার জৈষ্ঠপুত্র এবং দ্বিতীয় মোগল সম্রাট হুমায়ুনের উপর।
আরও পড়ুন: ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাস
বাদশাখান বিজয়ের দুই বছর পর অর্থাৎ ১৫২২ খ্রি. বাদশাহ বাবর কান্দাহার বিজয় করে তার দ্বিতীয় পুত্র কামরানকে সেখানকার শাসকর্তা নিযুক্ত করেন। এই দুই রাজ্য বিজয়ের পর মূলত সমগ্র আফগানিস্তানে তার কর্তৃত্ব স্থাপতি হয় এবং আফগান অঞ্চলের সকল বিপদ থেকে তিনি রক্ষা পান। এভাবে সমগ্র আফগানিস্তান বিজয়ের ফলে বাদশাহ বাবর নির্বঘ্নে ভারতবর্ষে অভিযান পরিচালনার দিকে পুনরায় মনোনিবেশ করেন।
ভারতবর্ষে বাবরের চতুর্থ প্রাথমিক অভিযান: বাবর যখন ভারতবর্ষে চতুর্থ বারের মত অভিযান পরিচালনার করার সুযোগ খুজছিলেন, তখন দিল্লির সুলতান ইব্রাহীম লোদীর বিরোদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তার শাসনে অসন্তোষ্ট আমির-উমরারা বাবরকে ভারতবর্ষে আমন্ত্রণ জানায়। তাদের মধ্যে অনেকেই ইব্রাহীম লোদীকে সিংহাসনচ্যুত করে দিল্লীর সুলতান হওয়ারও স্বপ্ন দেখতো। পান্জাবের আফগান শাসক দৌলত খান এবং সুলতান ইব্রাহীম লোদীর চাচা আলম খান এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
তাছাড়া একই সময় মেবার রাজ্যের রাজা রাণা সংগ্রাম সিংহও চাইতেন দিল্লির একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে ভারতবর্ষে হিন্দু শাসনের পুনরুত্থান ঘটাতে। তাই রানা সংগ্রাম সিংহও বাবরকে ভারতবর্ষে অভিযান পরিচালনার জন্য উৎসাহিত করেন। মূলত এরা সবাই ভেবেছিল, বাদশাহ বাবর আফগানিস্তানের কাবুল থেকে ভারতবর্ষে অভিযান পরিচালনা করে , দিল্লির সুলতানকে পরাজিত ও ল্ন্ঠন করে তৈমুর লঙ্গের মত আবার স্বদেশে ফিরে যাবে। এবং সেক্ষেত্রে তারা সহজেই দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করতে সক্ষম হবে।
লাহোর ও পান্জাব বিজয়: অতঃপর তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বাদশাহ বাবর ১৫২৪ খ্রি. বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে কাবুল থেকে পান্জাবের লাহোর অভিমুখে যুদ্ধ যাত্রা করেন। পান্জাবের আফগান সৈন্যদের পরাজিত করে বাবর বাবর প্রথমে লাহোর বিজয় করেন। এরপর পান্জাবের অন্যান্য অঞ্চল – শিয়ালকোট, সুলতানপুর, জলন্ধর এবং দিপালপুর বিজয় করেন। জলন্ধর ও সুলতানপুরের শাসক হিসেবে দৌলত খানকে নিযুক্ত করেন।
![]() |
| দৌলত খান |
কিন্তু দৌলত খান যখন বুঝতে পারলেন, বাবর তৈমুর লঙ্গের মত নয় বরং ভারতবর্ষে স্থায়ী ভাবে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে আগমন করেছেন। তখন তিনি নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য বাবরের বিরোদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। অন্যদিকে বাবর দৌলক খানের বিদ্রোহের অপরাধে তার বিরোদ্ধে যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করে। যুদ্ধে দৌলত খান পরাজিত করলে সে পলায়ন করে। এরপর দৌলত খানের পুত্র দিলওয়ার খানকে জলন্ধর ও সুলতান পুরের এবং আলম খানকে দিপালপুরের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে কাবুলে ফিরে যান।
তবে বাদশাহ বাবরের কাবুল প্রত্যবর্তনের পর দৌলত খান পুনরায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে অভিযান চালিয়ে নিজ পুত্র দিলওয়ার খান ও আলম খানকে পরাজিত করে নিজের মরযদা এবং প্রায় সমগ্র পান্জাব রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। পরাজিত আলম খান কাবুলে ফিরে গিয়ে বাদশাহ বাবরকে দৌলত খানের বিদ্রোহ সম্পর্কে অবগত করেন এবং তার সাহায্য কামনা করেন। কাবুলে ব্যাস্থ থাকায় বাদশাহ বাবর পান্জাবের অন্যন্য মোগল আমীরদের আলম খানকে সাহায্য করার নির্দেশ দেন। কিন্তু পান্জাবে ফিরে গিয়ে আলম খানও বাবরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে দৌলত খানের সাথে যোগদান করে মৈত্রী জোট গঠন করেন।
আরও পড়ুন: মুসলমানরা কিভাবে সিন্ধু বিজয় করে?
তারা উভয়ে দিল্লীর সিংহাসন লাভের আশায় সুলতান ইব্রাহীম লোদীর বিরোদ্ধে যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেন। এবং যুদ্ধে সুলতানের বাহিনীর কাছে তাদের মৈত্রী জোট পরাজিত হয়। অতঃপর দৌলত খান ও আলম খানের বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাবর পুনরায় কাবুল থেকে পান্জাব অভিমূখে যুদ্ধ যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৫২৫ খ্রি. ভারতবর্ষ বিজয়ের চূড়ান্ত সংকল্প বদ্ধ হন।
দৌলত খান ও আলম খান বাদশাহ বাবরের দৃঢ় ইচ্ছা, রণ সম্ভার ও পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাবরের কাছে আত্মসমার্পণ করেন। ফলে পান্জাব এবং লাহোর সহ পার্শবর্তী অন্যান্য অঞ্চল বাবরের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ভারতবর্ষের লাহোর ও পান্জাব বিজয়ের পর এবার বাদশাহ বাবর হিন্দুস্থানের প্রাণকেন্দ্র দিল্লী বিজয়ের দিকে মনোনিবেশ করেন। এ সময় দিল্লির অধিপতি ছিলেন লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহীম লোদী। হয়তু ইব্রাহীম লোদীও শুনতে পাচ্ছিলেন বাদশাহ বাবরের হাতে তার পরাজয়ের করুণ ধ্বনি!!
📘 ভারতবর্ষের ইতিহাস - ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাসান
📘 ভারতে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস – এ.কে.এম আবদুল আলীম
📘 মোগল সাম্রাজ্যের সোনালী অধ্যায় – শাহাদাত হোসেন খান
📘 ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাস – ড. মুহাম্মদ ইনামুল হক
📘 ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস – ড. মোহাম্মদ গোলাম রসূল
📘 ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন – আব্দুল করিম
📘 মুঘল ভারতের ইতিহাস – মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান
📘 মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের ইতিহাস – অনিরুদ্ধ রায়
📘 উইকিপিড়িয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া এবং বিভিন্ন ব্লগ ও অনলাইস ওয়েব সাইট
.jpeg)


0 মন্তব্যসমূহ