রসায়ন বিজ্ঞানের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানের পরিচয়, কর্ম এবং অবদান। A Brief Story of Jabir ibn Hayyan : The Father of the chemistry.
![]() |
| জাবির ইবনে হাইয়ান |
নবম শতাব্দীর সূচনা লগ্নে, যখন ইউরোপ ছিল কুসঃস্কার এবং অন্ধকারচ্ছন্ন, আমেরিকা- যুক্তরাষ্ট্রের জন্মও হয়নি, তখন মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষতা ছড়িয়ে এই অন্ধকার পৃথিবীকে আলোকিত করেছিল। বলা যায় তৎকালীন মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে করা গবেষণা এবং আবিষ্কারের উপর ভর করে আজকের পৃথিবী তথ্য-প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এতটা সামনে অগ্রসর হতে সক্ষম হচ্ছে। মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব অবদান রাখার জন্য সেই সময়টাকে ইসলামী স্বর্ণযুগ বলে বিবেচিত করা হয়। পড়ুন: প্রথম মুসলিম রসায়নবিদ খালিদ ইবনে ইয়াজিদ
বর্তমানে ধ্বংস্তূপে পরিণত হওয়া ইরাকের রাজধানী বাগদদই ছিল সেই স্বর্ণযুগের প্রাণকেন্দ্র। তখন মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে ছিল আব্বাসীয় রাজবংশের খলিফারা। হারুনুর রশদি, আল আমিন, আল মামুনের মত জ্ঞানপিপাসু খলিফাদের পৃষ্টপোষকতায় এবং অসংখ্য মুসলিম বিজ্ঞানী ও মনীষীদের অনবদ্য প্রচেষ্টায় ৯ম শতকের শুরুর দিকে তৎকালীন আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ কেন্দ্রীক এই স্বর্ণযুগের সূচনা হয়। সমগ্র বিশ্ব থেকে জ্ঞানপিপাসুরা এই বাগদাদে গমন করত জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে।
চিকিৎসাশাস্ত্র, রসায়নবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, ভূগোল, জৌতিরবিদ্যা, দর্শন, সাহিত্য চর্চা এবং ধর্মতত্ত্ব সহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোন শাখা নেই যা তখন চর্চিত হত না। যাই হোক যে সকল মহান মনীষী এবং বিজ্ঞানী ইসলামী স্বর্ণযুগের সূচনাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন রসায়ন বিজ্ঞানের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান। জাবির ইবনে হাইয়ানের জ্ঞানের পরধি শুধুমাত্র রসায়ন শাস্ত্রে সিমাবদ্ধ ছিল না, তিনি একাধারে গণিত, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন এবং পদার্থ বিজ্ঞানেও সমানভাবে দক্ষ ছিলেন।
রসায়ন বিজ্ঞানের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানের জীবনী, অবদান এবং কর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশে বিস্তৃত মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল বর্তমান সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে উমাইয়া খলিফারা। ৭২০ খ্রিস্টাব্দে, যে বছর ইসলামের পঞ্চম খলিফা খ্যাত মহান উমাইয়া খলিফা ওমর ইবনুল আব্দুল আজীজ মৃত্যুবরণ করেন, সে বছরের শেষের দিকে পারস্য তথা বর্তমান ইরানের তুস শহরে জন্মগ্রহণ করেন জাবির ইবনে হাইয়ান। তার পিতা ছিলেন আযাদ বংশীয় তৎকালীন বিখ্যাত চিকিৎসক ও ঔষধ বিক্রেতা হাইয়ান আল আযাদি।
![]() |
| জাবির ইবনে হাইয়ান |
পিতা হাইয়ানের পূর্বপুরুষদের বাসস্থান ছিল ইয়ামেনে। পরবর্তীতে তিনি জীবীকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে বর্তমান ইরাকের কূফা নগরে আগমন করেন। হাইয়ান উমাইয়া খলিফাদের কঠোর শাসনের প্রতি বিদ্ধেষ পোষণ করতেন এবং তিনি পারস্যের কিছু প্রভাবশালী বংশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। এমনকি তিনি উমাইয়া বিরোধী আব্বাসীয় আন্দোলনের যোগদান করেন এবং আব্বাসীয়দের দূত হিসেবে কুফা ত্যাগ করে তুস নগরে গমন করেন।
এই সময় তুস নগরে জাবির ইবনে হাইয়ান জন্মগ্রহণ করেন। উমাইয়াদের বিরোদ্ধে হাইয়ানের ষড়যন্ত্র ফাস হলে, তৎকালীন উমাইয়া শাসক তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন এবং হাইয়ানের পরিবারকে পুনরায় তাদের পূর্বপুরুষদের ভূমি ইয়ামেনে প্রেরণ করেন। ইয়ামেনেই জাবির ইবনে হাইয়ানের প্রথমিক শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়। শৈশব থেকে জাবির শিক্ষার প্রতি তার পচন্ড আগ্রহ ছিল এবং তিনি প্রখর মেধা শক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি যে কোন বিষয়ের গ্রন্থ পড়ার পাশাপাশি সে বিষয়ের উপর গবেষণা চালাতেন। ইয়ামেনে থাকতে তিনি পিতার মত চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠেন। একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে তিনি পরিচিত লাভ করেন।
পড়ুন: প্রথম মুসলিম বিজ্ঞানী আলী (রা)
৭৫০ খ্রি. উমাইয়া রাজবংশের পতন হলে আব্বাসীয় রাজবংশ ইসলামী খিলাফতের দায়িত্বলাভ করে। ইরাকের বাগদাদ ছিল আব্বাসীয়দের রাজধানী। আব্বাসীয় শাসনামলে জাবির ইবনে হাইয়ান ইয়ামেন থেকে পুনরায় পিতার কর্মস্থল কুফা নগরীতে বসবাস শুরু করেন। তিনি কুফায় এসে প্রথমে চিকিৎসক হিসেবে নিজের পেশাগত জীবন শুরু করেন। এই সূত্র ধরে পরবর্তীতে তৎকালীন বিখ্যাত পন্ডিত জাফর আস সাদিকের সংস্পর্শে আসেন জাবির ইবনে হাইয়ান।
জাবিরের শিক্ষকদের মধ্যে জাফর আস সাদিক ছিলেন অন্যতম। তিনি জাফর আস সাদিকের অনুপ্রেরণায় গণিত, রসায়ন বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিয়ে জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা শুরু করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রসায়ন ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসেবে তার সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছিল আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশীদের রাজত্বকাল। খলিফা হরুনুর রশীদ ৭৮৬ থেকে ৮০৯ খি পর্যন্ত খলিফা হিসেবে বাগদাদের সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন।
রাজ্য বিজয়ের পাশা পাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা-সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে তিনি ইসলামের ইতিহাসে একজন মহান শাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মূলত তার শাসনকালে ইসলামী স্বর্ণযুগের সূচনা হয়। যে সকল মুসলিম মনীষী ও পন্ডিতদের গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা এবং আবিষ্কারের মাধ্যমে ইসলামী স্বর্ণযুগের সূচনা হয়, তাদের মধ্যে জাবির ইবনে হাইয়ান অন্যতম একজন ছিলেন।
![]() |
| খলিফা হারুনুর রশীদ |
খলিফা হারুনুর রশীদের মন্ত্রী ছিলেন বার্মাকী বংশীয় ইয়াহিয়া ইবনে খালিদ বার্মাকী। একদিন খালিদ বার্মাকের স্ত্রী কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। বাগদাদের রাজদরবারের বিখ্যাত চিকিৎসকরা পর্যন্ত তার সঠিক চিকিৎসা করে ব্যার্থ হয়। এ সময় জাফর আস সাদিকের মাধ্যমে খালিদ বার্মাক জাবির ইবনে হাইয়ানের চিকিৎসা জ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারে।
অতপর খালিদের আমন্ত্রণে জাবের বাগদাদে আগমন করে এবং কয়েকদিনের চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার পর থেকে খালিদ ও জাবেরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন হয়। খালিদের অনুরুধে জাবির ইবনে হাইয়ান কুফা থেকে ইসলামী খেলাফতের রাজধানী ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের নগরী বাগদাদে আগমন করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বাগদাদের আগমনের পর জাবের ইবনে হাইয়ানের জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। পড়ুন: বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আল্লামা গোলাম আহমদ মুর্তুজা
জাবির তার জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছিলেন বাগদাদে। তিনি বাগদাদে একটি রসায়নাগার স্থাপন করে তার গবেষণা কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। বার্মাক বংশীয় কয়েকজন মন্ত্রীদের সহযোগিতা ও মধ্যস্থতায় তিনি বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা লাভ করেন। এর ফলে তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিশেষ করে রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করার সুযোগ পান। জাবির ইবনে হাইয়ান এরপর বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নতুন তথ্য ও বিভিন্ন প্রদার্থ আবিষ্কার করতে আরম্ভ করেন। এবং খুব অল্প দিনের মধ্যেই তিনি শ্রেষ্ঠ রসায়ন বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
জাবির ইবনে হাইয়ান প্রতিটি বিষয় যুক্তির সাহয্যে বুঝার ও অনুধাবন করার চেষ্টা করতেন। তিনি সর্বদা হাতে কলমে কাজ করতেন। প্রতিটি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ রুপে পর্যবেক্ষণ করে তার ফলাফল লিখে রাখতেন। জাবির ইবনে হাইয়ানের অবদান মৌলিক। তিনি বস্তু জগৎকে স্পিরিট, ধাতু এবং যৌগিক পদার্থ নামে তিনটি ভাগে ভাগ করেছিলেন। তার এ আবিষ্কারের উপর নির্ভর করেই পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা বস্তু জগৎকে বাষ্পীয়, পদার্থ এবং পদার্থ বহির্ভূত নামে তিন ভাগে বিভক্ত করেন।
জাবির এমন সব বস্তু বিশ্ব সভ্যতার সামনে তুলে ধরেন, যেগুলোকে তাপ দিলে বাষ্পে পরিণত হয়। সেই বস্তু গুলো হলো- কার্পূর, আর্সেনিক ও এমোনিয়াম ক্লোরাইড। তিনি আরও কিছু মিশ্র ও যৌগিক পদার্থ, যেগুলোকে অনায়াসে চূর্ণে পরিণত করা যায়। এই পর্যায়ের বস্তু গুলো হলো- সোনা, রুপা, তামা, লোহা, দস্তা প্র্রভৃতি।
জাবির ইবনে হাইয়ান সর্বপ্রথম নাইট্রিক এসিড এবং সালফিউরিক এসিড আবিষ্কার করেন। তিনি কিতাবুল ইসতিতমাস- এ নাইট্রিক এসিড প্রস্তুত করার ফর্মুলা বর্ণনা করেন। এমকি নাইট্রিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রনে স্বর্ণ গলানোর ফরমুলা তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন। স্বর্ণ গলানোর পদার্থটির নাম যে, ‘‘ একোয়া রিজিয়া’’ এ নামটিও তার প্রদত্ত।
![]() |
| জাবির ইবনে হাইয়ানের গবেষণা |
তিনি নানাভাবেই তার রাসায়নিক বিশ্লেষণ বা সংশ্লেষনের নামকরণ বা সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। পাতন, উর্ধবপাতন, পরিস্রাবন, দ্রবণ, কেলাসন, ভস্মীকরণ, গলন, বাষ্পীবভন ইত্যাদী রাসায়ানিক সংশ্লেষণ, গবেষণায় কিভাবে রুপান্তরিত হয় এবং তার ফল কি? তিনি তাও বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি চামড়া ও কাপড়ে রঙ করার প্রণালী, ইস্পাত প্রস্তুত করার পদ্ধতি, লোহা, ওয়াটার প্রুফ কাপড়ে বার্ণিশ করার উপায়, স্বর্ণের জলে পুস্তকে নাম লেখার জন্য লৌহের ব্যবহার, লোহার মরীচা রোধক বার্নিশ ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
জাবির ইবনে হাইয়ান সর্বপ্রথম ইস্পাত তৈরির পদ্ধতি, চুলের, কাচ, লেখার কালি তৈরির প্রক্রিয়া ও ব্যবহার বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। এমনকি তিনি স্বর্ণ ও পরশ পাথর তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি স্বর্ণ ও পরশ পাথরের লোভী ছিলেন না। ধন সম্পদের লোভ লাসা তাকে সভ্যতা উন্নয়নে ও গবেষণার আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র পদস্থলন ঘটাতে পারে নি। পড়ুন:আব্বাসীয় খিলাফতের ইতিহাস
রসায়ন শাস্ত্রের এমন সব গবেষণা, আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের জন্য জাবির ইবনে হাইয়ানকে রসায়ণ শাস্ত্রের জনক বলা হয়। জাবির ইবনে হাইয়ানের জ্ঞানের পরিধি শুধুমাত্র গণিত, রসায়ন, চিকিৎসা এবং ঔষধ শাস্ত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি আধ্যাত্মবাদী, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন, যুদ্ধবিদ্যা, জ্যামিতি, সংখ্যাতত্ত্ব, প্রকৌশল এবং পদার্থ বিজ্ঞানেও সমানভাবে দক্ষ ছিলেন। তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই সব শাখার উপর প্রায় দুই হাজারেরও বেশী গ্রন্থ রচনা করেন। তবে তার অধিকাংশ গ্রন্থই গবেষণা ধর্মী এবং মাত্র কয়েক পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।,
তিনি বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যা পেয়েছেন, তার ফলাফলই ছিল গ্রন্থসমূহের বিষয়বস্তু। বিভিন্ন বিষয়ে তার প্রণীত গ্রন্থাবলীর মধ্যে রসায়ন শাস্ত্রে ২৬৭ টি, যুদ্ধশাস্ত্রে ৩০০ টি, চিকিৎসা শাস্ত্রে ৫০০ টি, দর্শনে ৩০০ টি, দার্শানিক যুক্তিখন্ডের ৫০০ টি, দর্শনশাস্ত্রে ৩০০ টি, কিতাবুত তাগিতে ৩০০ টি, জ্যেতির্বিজ্ঞানে ৩০০ পৃষ্ঠার ১ টি উল্লেখযোগ্য। তবে তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ সমূহ হলো যথাক্রমে- কিতাব আল কিমিয়া, কিতাব আস সাবিন, কিতাব আল মিজান, দ্যা সেভেন্টিস বুক এবং দ্যা ফাইভ হান্ড্রেড বুকস।
পরিতাপের বিষয় হলো বর্তমান বিশ্বে রসায়ন বিজ্ঞানের জনক হিসেবে এন্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, জন ডালটন এবং ফ্রান্স বেকনকে পূর্ণ কৃতিত্ব দেওয়া হলেও জাবির ইবনে হাইয়ানকে এ ক্ষেত্রে অনেকটা অবহেলা করা হয়। যদিও তার আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করেই আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সূচনা হয়েছে। তাহলে শুধুমাত্র মুসলিম বলেই কি তাকে অবহেলা করা হচ্ছে! পড়ুন:ইসলামী সভ্যতার মহান সংষ্কারক নিজামুল মুলক আত তুসী
তাছাড়া আরও একটি পরিতাপের বিষয় হলো পাশ্চাত্যের খ্রিস্টান বিশ্ব অসংখ্য মুসলিম বিজ্ঞানীদের মত জাবির ইবনে হাইয়ানের নামও বিকৃত করে জেবার নামে লিপিবদ্ধ করেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তার মুসলিম পরিচয় লুকানোর ব্যার্থ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তার কৃতিত্ব আধুনিক বিশ্ব পরিপূর্ণভাবে মূল্যায়ন করুক বা না করুক, মানব সভ্যতা বিকাশে তিনি যে অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন, তার জন্য তিনি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ইসলামী তথা মানব সভ্যতার এই মহান বিজ্ঞানী বর্তমান ইরাকের কুফা নগরীতে ৮১৫ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যের উৎস:
📘সেরা মুসলিম বিজ্ঞানী - জিলহজ আলী
📘বিশ্বসেরা মুসলিম বিজ্ঞানী - মুহাম্মদ নুরুল আমীন।
📘বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান - মুহাম্মদ নুরুল আমীন।
📘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলমানদের অবদান - ড. মো: ইব্রাহীম খলিল
📘জ্ঞান বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান - আখতারুজ্জামান
📘বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান - নাজমুল হক
📘স্বর্ণযুগের মুসলিম বিজ্ঞানীরা - ড. মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম
📘বিজ্ঞানে মুসলমানদের দান - ড. এম. আকরব আলী
📘 উইকিপিড়িয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া এবং বিভিন্ন ব্লগ ও অনলাইস ওয়েব সাইট




0 মন্তব্যসমূহ