পূর্বের অংশ পড়ুন : মহানবীর (সঃ) গোপনে ইসলাম প্রচার : মক্কায় প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন যারা ।
৬১০ খ্রিস্টাব্দের ২৭ রমজান রাতে মহান
আল্লাহ্ মহানবী সাঃ এর নিকট প্রথম ওহী প্রেরণ করেন। তিনি প্রথম ওহী পেয়ে অতি
সংগোপনে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। ৬১০ থেকে ৬১৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিন বছর
সংগোপনে ইসলাম প্রচার করার পর তিনি প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার করার জন্য আল্লাহ
তায়ালার নিকট থেকে ওহী তথা আদেশ প্রাপ্ত হলেন। মহান আল্লাহ মহানবী সাঃ কে নির্দেশ
দিয়ে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা হিজরের ১৯৪ নং আয়াতে ইরশাদ করেন “ হে রাসূল!
আপনাকে যে বিষয়ে আদেশ করা হয়েছে আপনি তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন আর মুশরিকদের পরওয়া
করবেন না। সূরা শুআরার ২১৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন, আপনার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দিন।
এই নির্দেশ পেয়ে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ
সাঃ প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। তিনি সাফা পাহাড়ের চূড়ায়
দাঁড়িয়ে মক্কার বিভিন্ন গোত্রের নাম ধরে ধরে উচ্চস্বরে আহ্বান করলেন। সবাই এসে
পাহাড়ের পাদদেশে জড়ো হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন : যদি আমি কোনো কথা তোমাদের নিকট
উপস্থাপন করি, তোমরা কি তা বিশ্বাস করবে না? সবাই বললো, আপনি আল-আমীন, আমরা আপনার
কথা বিশ্বাস করবো। আপনি তো নির্দোষ ও নিষ্কলঙ্ক।
তিনি বললেন : আমি যদি বলি, এই পর্বত শ্রেণীর
আড়াল থেকে একটি অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের আক্রমণ করতে ছুটে আসছে তাও কি তোমরা
বিশ্বাস করবে? সবাই সমস্বরে বলে উঠলো : নিশ্চয়ই বিশ্বাস করবো। আপনি যে আল আমীন,
আপনি তো আস সাদীক। তিনি তখন বললেন : তাহলে তোমরা শোনো, আমি তোমাদেরকে কঠোর আযাবের
সতর্কবাণী শুনাচ্ছি।
তিনি একে একে এক একটি গোত্রকে সম্বোধন করে
বলতে লাগলেন, হে বনূ আব্দি মনাফ, বনূ জাহারা, আমার আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক করে দেবার
জন্য আমাকে আদেশ করা হয়েছে। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্-এই কলেমায় তোমরা ঈমান আনো। যদি
তোমরা এতে ঈমান আনো তাহলে তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ সাধন সম্ভব হবে।
তাছাড়া তিনি তাদের কাছে মূর্তিপূজা, অগ্নিপূজা, পৌত্তোলিকতা ইত্যাদির কুফল
সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
এককথায় মহানবী সাঃ পুরাতন কুসংস্কার,
অন্ধবিশ্বাস ও পৌত্তলিকতা পরিত্যাগ করে সত্য ও পবিত্রতার ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করে
মহান আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে আসার আকুল আহবান জানান। পূর্বপুরুষদের ধর্ম
মূর্তিপূজা ও পৌত্তলিকতা ত্যাগ করে এক আল্লাহকে বিশ্বাস করা এবং ইসলাম গ্রহণের
বাণী শুনে মক্কার সেই সব গোত্রপ্রধানেরা মহানবী সাঃ কে ধর্মদ্রোহী ও পাগল বলে
উপহাস করতে থাকে, যারা ইতিপূ্র্বে হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে আল আমিন ও আস সাদিক বলে
ডাকতো।
যাই হোক, প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করলে
মক্কাবাসীরা মুসলমানদেরকে নানাভাবে বাধা দিতে থাকে। এমনকি ইসলাম প্রচার করতে
গিয়ে মহানবী সাঃ কে এবং তাঁর সাহাবীগণকে দারুণ কষ্ট, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা,
অত্যাচার-নিপিড়ন সহ্য করতে হয়েছে। মক্কার কুরাইশদের বাধা প্রধানের ফলে মহানবী সাঃ
বহিরাগত ব্যক্তিদের মধ্যে ইসলাম ধর্ম প্রচারে সচেষ্ট হন। বাণিজ্য ও তীর্থ
উপলক্ষ্যে মক্কায় আগমনকারী ব্যক্তিরা ইসলাম গ্রহণ করে হযরতের প্রচারিত ধর্মের বাণী
নিজ দেশে প্রকাশ করতে থাকে।
এর মাধ্যমে ইসলামের
শান্তির বাণী মক্কা ছাড়াও আরব উপদ্বীপের অন্যান্য অঞ্চল এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে
ছড়িয়ে পড়ে। এতে মক্কার কুরাইশগণ ভীত ও সঙ্কিত হয়ে হযরত মুহাম্মদ সাঃ প্রতি মানসিক
ও শারীরীক অত্যাচার করে তার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলে। কিন্তু কোনো কিছুই তাঁকে এই মহান কাজ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বরং তিনি ঘোষণা করেছেন,
আল্লাহর কসম, আমার এক হাতে সূর্য এবং অন্য হাতে চন্দ্র এনে দেয়া হলেও আমি
আমার কর্তব্য পালন করা থেকে বিরত হবো না।
পরবর্তী অংশ পড়ুন : মহানবী (স.) ও নব-দিক্ষীত মুসলমানদের উপর কুরাইশদের নির্যাতন ।
তথ্যের উৎস সমূহ:
২. ইসলামের ইতিহাস - মোঃ মাহমুদুল হাছান
৩. ইসলামের ইতিহাস ডঃ সৈয়দ মাহমুদুল হক ।
0 মন্তব্যসমূহ