ভারতবর্ষের পরিচিতি ও নামকরণের ইতিহাস |

                                   
জাতি, ধর্ম ও ভাষার দিক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা ভারতবর্ষ পৃথিবীর এক জটিল এলাকা। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে অবস্থিত এই উপমহাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা, পূর্বে মায়ানমার, পশ্চিমে ইরান ও আফগানিস্তান এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর অবস্থিত। তিন হাজার চারশ মাইল সমুদ্রতট বিস্তৃত ভারতবর্ষে বহু জাতি, বহু ধর্ম ও বহু ভাষাগত জনগণের মহামিলন হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটানের বিস্তৃত অঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
ভৌগোলিক দিক থেকে ভারতবর্ষকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। উত্তর ভারত তথা আর‌্যবত এবং দক্ষিণ ভারত তথা দক্ষিণাত্য। উত্তর ভারতে বহুবার বৈদেশিক আক্রমণের স্বীকার হয়েছে এবং এই অঞ্চলে শতাব্দী ধরে বহু রাজ্যের উত্থান পতন হয়েছে। ধর্ম, কৃষ্টি, ভাষা ও রীতিনীতির দিক দিয়ে উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের অধিবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট প্রভেদ আছে। এই বিশাল ভারতবর্ষে অসংখ্য জাতির বসবাস ছিল।  
                                                
এদেশে কমপক্ষে ১৭৯ টি ভাষা ও ৫৪৪ টি আঞ্চলিক ভাষা প্রচলিত আছে। এই কারণে ভারতীয় উপমহাদেশেকে বলা হয় “নৃতত্ত্বের যাদুঘর। ভারতবর্ষে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, কৃষ্টি বিদ্যমান থাকায় বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে রাজনৈতিক ঐক্য ও একত্রীকরণ খুব অল্পই সম্ভবপর হয়। যদিও সম্রাট অশোক, সুলতান আলাউদ্দীন খলজী এবং সম্রাট আকবরের রাজত্বে উত্তর ও দক্ষিণ ভারত একই রাজনৈতিক পরিমন্ডলে আবদ্ধ হয়।      আরও পড়ুন:মুসলিম বিজয়ের পূর্বে ভারতবর্ষ কেমন ছিল?                                                     
জাতি, ধর্ম ও ভাষার দিক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা ভারতবর্ষ যেমন বৈচিত্রময় তেমনি নামকরণের দিক দিয়েও এটির ভিন্নতা রয়েছে।  ভারতবর্ষের নামকরণ নিয়ে ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মধ্যে নানা মতদ্বৈধতা রয়েছে। একটি বর্ণনানুযায়ী প্রাচীনকালে 'ভারত' নামে এদেশে এক হিন্দু রাজা ছিল। জনশ্রুতি অনুযায়ী এই রাজা ভরতের নামানুসারেই এদেশের নামকরণ হয়েছে ভারতবর্ষ। পরবর্তীতে ইংরেজ আমলে এটি Indian Sub-continent বা ভারতীয় উপমহাদেশ নামে পরিচিত লাভ করে। আবার ভারতবর্ষকে হিন্দুস্থান নামেও অভহিত করা হয়। 
                                    
হিন্দুস্থানের নামকরণ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ হাননান তার লিখিত “ দেশের নামটি বাংলাদেশ কে রেখেছে এই নাম “ গ্রন্থে বলেন,
“হযরত আদম আ. থেকে আমাদের এই মানব জাতির শুরু। কিন্তু নুহ আঃ সময়ে সমগ্র পৃথিবীতে এক মহাপ্লাবন ঘটে। এই মহাপ্লাবনে দুনিয়ার সকল কিছু ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ জীবিত ছিল না। শুধু নুহের নৌকায় আরোহণ করেছিলেন ৮০ জন নুহ আঃ এর অনুসারী; পরবর্তীতে এই ৮০ জন থেকেই মানব জাতির আবার নতুন যাত্রা শুরু হয়।                                                      
বেঁচে যাওয়া ৮০ জনের মধ্যে ছিলেন নুহ আঃ এর এক পুত্র; নাম তাঁর ‘হাম’। নুহ আঃ তাঁর পুত্র হামকে বললেন, ‘তুমি মানব বসতি স্থাপনের জন্যে চলে যাও পৃথিবীর দক্ষিণ দিকে’। পিতার নির্দেশ পেয়ে হাম চলে এলেন আমাদের এশিয়া মহাদেশের কাছাকাছি। সেখানে এসে তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র হিন্দকে পাঠালেন ভারতের দিকে। অনেকে মনে করেন, হামের পুত্র হিন্দের নাম অনুসারেই ভারতের নাম হয়েছে হিন্দুস্তান। মুসলিম শাসনমালে ভারতবর্ষ সাধারণত হিন্দুস্থান নামে পরিচিত ছিল।

আরও পড়ুন : মুসলমানদের বিজয়ের পূর্বে ভারতের অবস্থা |
তথ্যসূত্র :
  • ভারতবর্ষের ইতিহাস (মুসলিম ও ব্রিটিশ শাসন)- ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাছান।
  • ভারতে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস - এ.কে,এম আব্দুল আলীম। 
  • ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস - এ.কে.এম শাহানেওয়াজ।
  • ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস - মাহমুবুর রহমান।
  • ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস- ড. মুহাম্মদ গোলাম রসূল।
  • উইকিপিডিয়া এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট।
                                               



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ