বারবারোসালার : বিখ্যাত তুর্কি ইসলামী সিরিজ | খিজির ও অরুচ রেইচ কারা ?


তুর্কি ইসলামী সিরিজসমূহ একদিকে যেমন জনপ্রিয়তার রেকর্ড স্থাপন করে পৃথিবী ব্যাপি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অপরদিকে হলিউড কিংবা বলিউডের অশ্লীল চলচিত্র সমূহ থেকে মুসলিম সমাজকে ফিরিয়ে এনে ইসলামের প্রকৃত ইতিহাস এবং সুস্থ সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে যথেষ্ট সহায়তা করছে। বলিউড ও হলিউডের চলচিত্রে যেভাবে মুসলমানকে খারাপভাবে উপস্থাপন করছে এবং ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, তাদের প্রতি উচিত জবাব হিসেবে তুর্কি সিরিজ সমূহের ভূমিকা অতুলনীয়।

সর্বপ্রথম উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান উসমানে পিতা আর্তুগুল গাজীর জীবনীকে নিয়ে নির্মিত দিরিলিস আর্তুগুল সিরিজের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপি তুর্কি সিরিজসমূহ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এমনকি সম্প্রতি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায় বিশ্বজুড়ে তিন বিলিয়ন দর্শক অর্জন করে ইতিহাস তৈরি করেছে সিরিজটি। এরপর সুলতান উসমানকে নিয়ে নির্মিত সিরিজ কুরুলুস উসমান এবং সেলজুক সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সুলতান মালিক শাহকে নিয়ে নির্মিত উয়ানিস বুয়িকলু সেলজুকলু সিরিজটি সমূহও দর্শকদের মনে স্থান করে নিচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বারবারোস বা বারবারোসা নামের আরও একটি জনপ্রিয় সিরিজ এখন পর্দায় আসতে চলছে, যেটি তুর্কি সিরিজের নির্মানের ইতিহাস সর্বোচ্চ বাজেটের সিরিজ। তুরস্কের জাতীয় টেলিভিশন টিআরটি ওয়ান সিরিজ টি নির্মিত করছে। বারবারোসা সিরিজটি মূলত নির্মিত হচ্ছে উসমানিয় খেলাফতের সর্বশ্রেষ্ট নাবিক খিজির রেইস তথা খাইরুদ্দিন বারবারোসের জীবনি নিয়ে। এই সিরিজটির অন্যতম আকর্ষণ হলো, দিরিলিস আর্তুগুল সিরিজে আরতুগ্রুল গাজীর চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করা সবার প্রিয় অভিনেতা এনজিন আলতান।

তিনি এই সিরিজটিতে খাইরুদ্দিন বারবারোসার ভাই অরুজ রেইস বা অরুজ বারবারোসা চরিত্রে অভিনয় করবেন। খিজির খাইরুদ্দিন বারবারোসা ছিলেন উসমানীয় খেলাফতের মুসলিম উম্মাহ’র সবচেয়ে সাহসী এবং বীর নৌ-সেনাপতি। তার মত দুর্ধর্ষ ও বিচক্ষণ নৌ-সেনাপতি তৎকালীন সমগ্র ইউরোপেও একজন ছিলো না। তার বুদ্ধিমত্তায় উসমানীয় সাম্রাজ্য সামুদ্রপথে অনেক যুদ্ধে জয়লাভ করে এবং অসংখ্য নগর, দেশ ও দ্বীপ বিজয় করতে সক্ষম হয়। খাইরুদ্দিন বারবারোসার জন্ম ১৪৭৫ খ্রিস্টাব্দে। তার জন্মস্থান উসমানীয় শাসনের অধীনে থাকা লেসবোসের পালাইওকিপোস গ্রামে।

 

তার বাবা ইয়াকুপ ছিলেন একজন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত ধর্মান্তরিত মুসলিম সিপাহী। উসমানীয় বাহিনীর লেসবোস দখলের সময় ইয়াকুব উসমানীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। আর তার মা ছিলেন লেসবোসে বসবাসকারী একজন গ্রীক। সেই সময় উসমানীয়রা তাদের জয় করা অঞ্চলগুলোতে ধর্মীয় উদারতা দেখিয়েছিলো। যার ফলে অনেক স্থানীয় ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলো।

    

শৈশবে খাইরেদ্দীন বারবারোসার নাম ছিলো ‘খিজির’। চার ভাইয়ের মাঝে খিজির ছিলেন তৃতীয়। বাকি ভাইদের নাম যথাক্রমে ইসহাক, অরুচ এবং ইলিয়াস। এদের মাঝে খিজির এবং অরুচের কমলা রঙের দাড়ি থাকার কারণে ইউরোপীয়রা তাদের ‘বারবারোসা ভাতৃদ্বয়’ উপাধি দিয়েছিলো। আর উসমানীয় সুলতান সুলেইমান খিজিরকে 'খয়ের আদ-দীন' উপাধিতে ভূষিত করেন, যার অর্থ 'ইসলামের শ্রেষ্ঠতম'। পরে সেটা 'হাইরেদ্দীন' হিসেবে বেশি পরিচিতি পায়।

১৫১৬ সালে বারবারোসা ভাতৃদ্বয় আলজিয়ার্স আক্রমণ করেন। ফলে এই অঞ্চলটি স্পেনীয়দের হাত থেকে মুসলিমদের হাতে চলে আসে। আলজিয়ার্সকে মুক্ত করার পর উসমানীয় সুলতান সুলাইমানের সুনজরে আসেন দুই ভাই। ফলে উসমানীয় সুলতান অরুচকে আলজিয়ার্সের গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি দেন। আর খিজিরকে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের প্রধান অ্যাডমিরাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অরুচ স্পেনীয়দের সঙ্গে এক সম্মুখ যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘসময়ের সংগ্রামী কর্মজীবন পার করার পর, হাইরেদ্দীন বারবারোসা প্রথমে অবসর গ্রহণ করেন এবং এর পর ১৫৪৬ খ্রিস্টাব্দে উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টেোপলে মৃত্যু বরণ করেন।

খাইরুদ্দিন বারবারোসাকে মুসলিম উম্মাহ আজ স্মরণ করে তার কিছু মহৎ কর্মকান্ডের জন্য। তিনি আন্দালুস তথা স্পেন থেকে ৭০ হাজার মুসলমানকে মুক্ত করে আলজেরিয়া নিয়ে আসেন। স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের হাত থেকে ভূমধ্যসাগরকে তিনি নিরাপদ করে তোলেন। প্রিভেজার যুদ্ধে তিনি ক্রুসেডারদের নির্মমভাবে পরাজিত করেন।

বি:দ্র: বারবারোসলার সিরিজটির বাংলা সাবটাইটেল লিংক : বারবারোসলার সিরিজ : সিজন ১- চলমান... 

আরও দেখুন :

*দিরিলিস আর্তগ্রুল : লিংকসহ বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ।

*কুরুলুস উসমান : লিংকসহ বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ

*উয়ানিস বুয়ুক সেলজুকলু : লিংকসহ তু্র্কি সিরিজ

*মেন্দারমিন জালাল উদ্দীন- লিংকসহ উজবেক তু্র্কি সিরিজ।

*বারবারোসলার সিরিজ : লিংকসহ বিখ্যাত তুর্কি সিরিজ।

            ভিডিও দেখুন:

                        

                       

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ