দ্বিতীয় বদরের যুদ্ধ ও বীর মাওনার মর্মান্তিক ঘটনা |

                                                                                       

  পূর্বের অংশটি পড়ুন : উহুদের যুদ্ধ : মুসলমানদের প্রথম বিপর্যয়

৬২৫ ৭০০ জন মুসলিম মুজাহিদ এবং ৩০০০ জন মক্কার বিধর্মীদের মধ্যে সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক ওহুদের যুদ্ধ এই যুদ্ধের প্রথমদিকে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করলেও, মহানবী () এর আদেশ অমান্য করে আইনাইন পাহাড়ে অবস্থানরত মুসলিম তীরন্দাজ বাহিনী স্থান ত্যাগ করলে মুসলমানদের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়

যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুসলিম পতকাবাহী মুসআব ইবনে উমায়ের রাঃ শাহাদাত বরণ করলে গুজুব উঠে মহানবী () শাহাদাৎ বরণ করেছেন গুজবে বিশ্বাস করে কাফিররা মক্কার অভিমুখে চলে যায় ফলে যুদ্ধ অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয় ওহুদের যুদ্ধে কুরাইশগণ সত্যি সত্যি মনে করেছিল মহানবী () শাহাদাৎ বরণ করেছেন

কিন্তু প্রকৃত ঘটনা যখন কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান জানতে পারলো যে, মহানবী () নং মুসআব (রাশাহাদাত বরণ করেছেন, তখন আবু সুফিয়ান তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে পুনরায় বদরের প্রান্তরে যুদ্ধ করার স্পর্ধা দেখায় আবু সুফিয়ান মুহাম্মদ () এর কাছে যুদ্ধ করার জন্য পত্র দিল হযরত মুহাম্মদ () পত্রের দাত ভাঙ্গা জবাব দিলেন তিনি বললেন, “ আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই আমাদের শ্রেষ্ঠ অভিভাবক

মক্কার কাফেরগণ দুদুনি বদর প্রান্তরে সমবেত হয় অপরদিকে মহানবী () বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে বদর প্রান্তরে সমবেত হতেই কুরাইশ বাহিনী মুসলিমদের সংঘবদ্ধ দৃঢপ্রতিজ্ঞ মনোভাব দেখে ভীত হয়ে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যায় আর রক্তপাতহীন এই সংঘর্ষই ইতিহাসে দ্বিতীয় বদরের যুদ্ধ নামে পরিচিত

                               বীর মাওনার ঘটনা :

ওহুদের যুদ্ধের পর বীর মাওনার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত বেদনাবিধুর দুঃখজনক ঘটনাএকদা নজদের অদিবাসী আবু বেরা আসের ইবনে মারেক মদিনায় এসে হযরত মুহাম্মদ (:) এর দরবারে হাজির হন প্রসঙ্গত নজদ বর্তমান সৌদি আরবের একটি প্রদেশ, যার রাজধানী রিয়াদ হযরত মুহাম্মদ (:) আবু বেরা আসের ইবনে মারেককে ইসলামের দাওয়াত দেন তিনি ইসলাম কবুল করেননি কিংবা ইসলামকে অপছন্দও করেননি তিনি মহানবী () কে কিছু মুয়াল্লিম বা মুসলিম শিক্ষক ধর্ম প্রচারককে নজদে প্রেরনের আবেদন জানান

তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুনজের ইবনে আসেরের নেতৃত্বে হযরত মুহাম্মদ (:) ৭০ জন সাহাবি নজদে প্রেরণ করেন হযরত হারাম ইবনে মেলহান রাঃ এর মাধ্যমে নজদের বনি আমর গোত্রের অন্যতম নেতা আমর ইবনে তোফায়েলের নিকট একটি দাওয়াতপত্র পাঠান আমর ইবনে তোফায়েল চিঠি না পড়েই মহানবী এর দূত হারাম ইবনে মেলহান রাঃ কে হত্যা করেন এবং সৈন্য সামন্ত নিয়ে এসে মাওনা নামক স্থানে নজদ উদ্দেশ্যে অবস্থানকারী ৬৯ জন মুসলিম মুয়াল্লিমকে হত্যা করেন

কেবল উমাইয়া নামক একজন সাহাবী হত্যাকান্ড থেকে রক্ষা পান বিনা যুদ্ধে এত বেশি শিক্ষিত মুসলমানের শাহাদাত বরল ইসলামের ইতিহাসে মর্মান্তিক ঘটনা বদর ওহুদ কোন যুদ্ধই এত সংখ্যক মুসলিম প্রাণ হারান নি শাহাদাত বরণ করা সকল মুসলিমরা শুধুমাত্র বীর যোদ্ধা ছিলেন না, তারা জ্ঞানী শিক্ষক ছিলেন তাদেরে হত্যাকান্ড মুসলমানদের অপূরণীয় ক্ষতি করেছিল মর্মান্তিক ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে বীর মাওনা নামে পরিচিত

পরবর্তী অংশ পড়ুন : খন্দক, পরিখা বা আহযাবের যুদ্ধ : মুসলমানদের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ ।


তথ্যের উৎস সমূহ:

১. আরব জাতির ইতিহাস - শেখ মুহাম্মদ লুৎফর রহমান ।
২. ইসলামের ইতিহাস - মোঃ মাহমুদুল হাছান 
৩. ইসলামের ইতিহাস  ডঃ সৈয়দ মাহমুদুল হক ।

৪. বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও ব্লগের পোস্ট  

                                                   


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ